

এবার এসআইআর (West Bengal SIR) শুনানির নোটিস পেলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্যরা! এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নেতাজির পরিবারের সদস্যদেরও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? অনেকে সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। বিতর্ক শুরু হতেই নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করল কমিশন।
রবিবার জানা যায়, এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসুকে। নোটিস পেয়ে চন্দ্র বসু নিজেও বিস্মিত। কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “নেতাজির প্রপৌত্র আমি, আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে! কোন পথে এগোচ্ছে ভারত?” নেটিজেনদের একাংশও প্রশ্ন তোলেন এই নিয়ে।
এরপরই নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করে কমিশন। বলা হয়েছে, চন্দ্র বসুর জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে লিংক করানোর যে অংশ রয়েছে, তা পুরোটাই ফাঁকা রয়েছে। কোনও তথ্যই দেননি তিনি। তাই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে সব ভোটারই তাদের কাছে সমান।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ধরে কাজ হচ্ছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনও ব্যক্তির নাম থাকলে তাঁকে সেই সংক্রান্ত কয়েকটি তথ্য এনুমারেশন ফর্মে দিতে হচ্ছে। আর যদি নাম থাকে তবে পরিবারের সদস্যের অর্থাৎ বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমা - যাঁদের নাম ওই তালিকায় ছিল, তাঁদের যে কোনও একজনের তথ্য দিতে হচ্ছে। ফর্মে কোনও অসঙ্গতি থাকলে ভোটারদের শুনানির জন্য তলব করা হচ্ছে।
এসআইআর-এর শুনানিতে সাধারণ মানুষদের পাশাপাশি একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজিরার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামি, প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মোহনবাগান রত্ন টুটু বসু, মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার, কবি জয় গোস্বামীর নাম রয়েছে। অভিনেতা দেব, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, অমর্ত্য সেনের এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার এসআইআরে শুনানির নোটিস ধরানো হয়েছে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী, রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়কে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন