SIR: 'মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ' দিতে 'চাপ' বিজেপি-র! রাজস্থানে বিএলওর অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল

People's Reporter: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে কিরীটি কুমারকে উত্তেজিত হয়ে স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাইনিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘হয়তো আমার উচিত পুরো বস্তি থেকে ভোটারদের সরিয়ে দেওয়া।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকী গ্রাফিক্স আকাশ
Published on

দেশের এসআইআর (Special Intensive Revision – SIR) আবহে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন জয়পুরের এক বিএলও (BLO)। কিরীটি কুমার নামের ওই শিক্ষকের এক ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ওই বিএলও-কে বলতে শোনা গেছে, ‘আমি কালেক্টরেট অফিসে যাবো এবং নিজেকে শেষ করে দেব’। জয়পুরের হাওয়ামহল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এক বুথের ওই বিএলও-র অভিযোগ, এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৪৭০টি নাম বাদ দেবার জন্য বিজেপির আপত্তি খতিয়ে দেখতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিউজলন্ড্রীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, স্থানীয় এক স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক, বিএলও কিরীটি কুমার জানিয়েছেন, এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবার পর বিজেপির পক্ষ থেকে ৪৭০জন ভোটারকে নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। যা তাঁর বুথের মোট ভোটারের ৪০ শতাংশ। বিএলও-র অভিযোগ, তাঁকে সাসপেন্ড করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এই ভোটারদের প্রসঙ্গে বিজেপির আপত্তি খতিয়ে দেখার জন্য। তাঁর আরও অভিযোগ, এগুলি সবই মুসলিম ভোটারদের নাম এবং তাঁদের সমস্ত তথ্য তিনি ইতিমধ্যেই যাচাই করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিরীটি কুমারের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাতে তাঁকে উত্তেজিত হয়ে স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাইনিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘হয়তো আমার উচিত পুরো বস্তি থেকে ভোটারদের সরিয়ে দেওয়া। যাতে আপনি এবং মহারাজ বিনা বাধায় ভোটে জিততে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে কোনও রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টরা (BLA) প্রতি দিন সর্বাধিক ১০টি করে অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। যদিও এই কেন্দ্রের এই বুথের ক্ষেত্রে বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, গত দু'দিন তাদের এলের বিএলএ ৪০০-র বেশি ফর্ম জমা দিয়েছেন। কীভাবে বিজেপির বিএলএ এই কাজ করলেন প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।

বিএলও-র আরও অভিযোগ, এসআইআর-এর কাজের চাপে তাঁর ছাত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন ঊর্ধ্বতন নির্বাচন আধিকারিকরা তাঁকে দু’দিনের মধ্যে ৪৭০টি ফর্ম খতিয়ে দেখতে বলেছেন। যদিও বিএলও-র হিসেব অনুসারে প্রতিটি ফর্ম পূরণ করতে ১০ মিনিট করে সময় লাগে এবং কোনোভাবেই এই কাজ ৭৮ ঘন্টার কম সময়ে করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, “এবং তারপর এই ভোটারদের যাচাই করার জন্য আমাকে আবার তাঁদের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। এটা একই কাজ দ্বিতীয়বার করার মত। আমার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। স্যার, আমাদের এমনিতেই মেজাজ খারাপ হয়ে আছে... বিজেপি নেতারা আমাদের হুমকি দিচ্ছেন যে তারা আমাদের বরখাস্ত করিয়ে দেবেন। আমি তাদের রাজনীতি খুব ভালো করেই জানি। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি যে আমি এটা করতে পারব না।”

নিউজলন্ড্রীর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাশাপাশি পাঁচটি বুথের বিএলও-রা জানিয়েছেন তাঁরা কোনও আপত্তি পাননি। উল্লেখ্য এইসব জায়গায় বেশিরভাগই হিন্দু ভোট। যদিও অন্য এক বুথের বিএলও সরস্বতী মীনা জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ১৫৮ জন ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি জমা পড়েছে। এই সমস্ত অভিযোগ বিজেপি এজেন্টরা দায়ের করেছে এবং সব অভিযোগই মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে। যদিও মীনা জানিয়েছেন, তিনি আগেই এসআইআর-এর সময় সমস্ত তথ্য যাচাই করে দেখেছেন। এখন যা করা হচ্ছে তা ভুল এবং এভাবে আমাদের ওপর চাপ তৈরি করা যাবে না।

রাজস্থানের জয়পুরের হাওয়ামহল বিধানসভা কেন্দ্র একটি মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্র। ২০২৩ সালের রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির বালমুকুন্দ আচার্য মাত্র ৯৭৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আর আর তেওয়ারী পেয়েছিলেন ৯৫,০১৫ ভোট এবং বিজেপি প্রার্থী বালমুকুন্দ আচার্য পেয়েছিলেন ৯৫,৯৮৯ ভোট। বিধায়ক হবার পর থেকেই বালমুকুন্দ আচার্য বারবার মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করেছেন এবং যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে।

২০২৪-এর ভোটার তালিকা অনুসারে এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৩১ এবং মোট বুথের সংখ্যা ২২১। এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।

হাওয়ামহলের ঘটনা প্রসঙ্গে রাজস্থান কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিএলও কিরীটি কুমারের ভিডিও এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট করে বলা হয়েছে, “SIR-এ বিজেপির ভোট চুরি, গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। বিজেপি নেতারা কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং বৈধ ভোট বাতিল করার জন্য BLO-দের উপর চাপ দিচ্ছেন।”

রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রতাপ সিং খাচারিয়াওয়াস এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বিজেপি নেতা বি এল সন্তোষের সভাপতিত্বে জয়পুরে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারদের নাম বাদ দেবার কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই বিএলওদের ওপর নাম বাদ দেবার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন হাওয়ামহল কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্যও। তাঁর অভিযোগ, ওই বিএলও কংগ্রেস কর্মী। তিনি ওই বিএলও সম্পর্কে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ছবি প্রতীকী
SIR: এসআইআর শুনানিতে নথি হিসেবে গৃহীত হবে না মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, কমিশনের নির্দেশ
ছবি প্রতীকী
Goa SIR: প্রয়োজনে এসআইআর ফর্ম সংশোধন করা হোক - শুনানির নোটিশ পেয়ে জানালেন নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in