

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছিল, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে এসআইআর-শুনানির জন্য কোনও নোটিশ পাঠানো হয়নি। কিন্তু বুধবার সকালেই সেই সত্য বদলে গেল। অর্থনীতিবিদের শান্তিনিকেতনের বাসভবনে নোটিশ দিয়ে যান সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও। এরপরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপিকে নিশানা করা শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল।
বোলপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার অমর্ত্য সেন। নিয়ম মতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে এসেছেন স্থানীয় বিএলও সোমব্রত মুখার্জি। অর্থনীতিবিদের এক আত্মীয় সেই নোটিশ গ্রহণ করেছেন।
জানা গেছে, অমর্ত্য সেনের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (তথ্যগত ভুল) রয়েছে। ফর্মে যাঁকে দিয়ে তিনি লিঙ্ক করেছেন অর্থাৎ তাঁর বাবা অথবা মা – তাঁর সঙ্গে নোবেলজয়ীর বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর। যা স্বাভাবিক নয়। তাই বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে নোবেলজয়ীকে শুনানি কেন্দ্রে হাজিরা দিতে হবে না। আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় কমিশনের আধিকারিক তাঁর বাড়ি গিয়ে শুনানি করবেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন অমর্ত্য সেনকে এসআইআর-শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাটে দলীয় জনসভায় তিনি বলেন, “হায় রে পোড়া কপাল! আসতে আসতে শুনছিলাম, অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠিয়েছে। ভারতের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতে এনেছেন। দেশের নাম বিশ্বসভায় বিশ্ববন্দিত করেছেন। যাঁকে দেখে এ দেশকে মানুষ চেনেন, যাঁর হাত ধরে দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, তাঁকে এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে।‘’
অভিষেকের এই দাবির পরেই বিতর্ক শুরু হয়। নবতিপর নোবেলজয়ীকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর সূত্রে জানা গেছিল, অমর্ত্য সেনের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি রয়েছে। তবে তাঁকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়নি। এরপর বুধবার সকালেই অর্থনীতিবিদের বাড়িতে নোটিশ দিয়ে যান স্থানীয় বিএলও।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল লেখে, “বিজেপি তাদের 'দালাল' নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে আজকাল জীববিজ্ঞান নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু করেছে। ভারতবর্ষের গর্ব নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে 'বয়সের পার্থক্য'-এর মতো এক হাস্যকর অজুহাতে শুনানির নোটিশ পাঠিয়েছে কমিশন। এটা আসলে নিয়ম-কানুনের প্রতি চূড়ান্ত অবহেলারই প্রমাণ। 'হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি'র ধাপ্পাবাজি ধোপে না টেকায়, এখন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে হেনস্থা করার জন্য এরা একটা আস্ত 'আজগুবি বিভাগ' খুলে বসেছে।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন