

অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সের পর এবার ভারতেও নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নাবালকদের মেটা এবং ইউটিউব ব্যবহার এবং আসক্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়স ভিত্তিক ব্যবহার সীমা সংক্রান্ত নীতিগুলির বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে এই ব্যবহার অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে তিনি বয়স সীমার ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার সময়সীমা নির্দিষ্ট করার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক আছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল আসক্তিকে স্মার্টফোন, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মতো ডিভাইসগুলির সাথে অতিরিক্ত বা বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত থাকাকে বোঝানো হয়। এর ফলে মানসিক কষ্ট এবং কার্যক্ষমতার অবনতি ঘটে। সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের আচরণ মনোযোগে ব্যাঘাত, ঘুমের অভাব এবং একাগ্রতা হ্রাসের মাধ্যমে পড়াশোনার ফলাফল ও পেশাগত দক্ষতাকে নষ্ট করতে পারে। এটি বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং অনিদ্রাজনিত অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখে নির্দেশিকা জারি করে অস্ট্রেলিয়াতে নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এই বিষয়ে বিশ্বের মধ্যে নজির গড়েছেন। চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় সম্মতি জানানো হয়েছে। এছাড়াও ডেনমার্ক, ব্রিটেন, স্পেন, গ্রিসের মত দেশের পক্ষ থেকেই এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন অন্ধ্রপ্রদেশের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ জানান, আমরা অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব ১৬ আইনটি নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমরা মনে করি আমাদেরও এরকমের একটি কঠোর আইন তৈরি করা দরকার। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশুদের উপর সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার চিন্তিত। প্রশাসনিক স্তরে অস্ট্রেলিয়ান মডেল নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং অন্ধ্রপ্রদেশে কীভাবে এই জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়িত করা যেতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।
একই ধরণের ভাবনাচিন্তা করছে গোয়া সরকারও। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুসরণ করে কীভাবে রাজ্যেও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় সেই বিষয়ে তাঁরা ভাবনাচিন্তা করছেন।