SIR WB: পাঁচ জেলায় ১৫–২০% ভুয়ো নথি আপলোড; চূড়ান্ত তালিকায় আরও নাম বাদ?

People's Reporter: গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে লেখা এক চিঠিতে সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের ঠিকা কর্মী পরিচয়ে আইপ্যাক-এর কর্মীদের দিয়ে ভোটার ফর্ম আপলোড করাচ্ছে।
ছবি প্রতীকী
ছবি প্রতীকী ছবি সংগৃহীত
Published on

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠলো পাঁচ জেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুয়ো নথি আপলোড করার। যদিও কারা এই কাজ করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে লেখা এক চিঠিতে সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের ঠিকা কর্মী পরিচয়ে আইপ্যাক-এর কর্মীদের দিয়ে ভোটার ফর্ম আপলোড করাচ্ছে। এইআরও এবং ইআরও দপ্তর থেকে আপলোড করা সমস্ত ফর্ম খতিয়ে দেখা হোক যে কোন আইপি অ্যাড্রেস থেকে এইসব ফর্ম আপলোড করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় বাদ গেছে ৫৮ লক্ষ নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে জানা যাবে ঠিক কত নাম বাদ পড়লো। কিন্তু তার আগেই কমিশন সূত্রে খবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই বাদ যেতে চলেছে আরও প্রায় ১১ লক্ষ নাম। যাদের নাম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই বাদ যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তাদের অধিকাংশই শুনানিতে হাজির হননি অথবা শুনানির কাগজ পৌঁছে দেবার জন্য তাদের পাওয়া যায়নি।

গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে এসআইআর শুনানি পর্ব। এই পর্ব শেষে জানা গেছে ‘আনম্যাপড’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ জনিত কারণে চিহ্নিত হয়েছিলেন মোট ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জন ভোটের। যাদের মধ্যে শুনানিতে ডাক পাওয়া সত্ত্বেও হাজিরা দেননি ৬ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার। শুনানির নোটিশ দেওয়া যায়নি ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৭৯ জন ভোটারকে। কারণ বিএলও-রা তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সিইও জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর যাদের নাম বাতিল হবে তাঁরা প্রয়োজনে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিইও-র কাছে নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারবেন। সেখানে বাতিল হলে জানাতে পারবেন সিইও-র কাছে। এরপর কেন নাম বাতিল হয়েছে তা উল্লেখ করে জানাবে কমিশন।

এছাড়াও এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের একাধিক জেলায় জাল নথি আপলোড করার অভিযোগ সামনে এসেছে। কমিশন সূত্র অনুসারে, রাজ্যের পাঁচ জেলায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ফর্ম ‘ভুয়ো নথি’ সহ আপলোড করা হয়েছে। যে পাঁচ জেলার নাম এই তালিকায় উঠে এসেছে তাতে আছে কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং উত্তর ২৪ পরগণা। এই সব জেলায় সংবাদপত্রের কাটিং, সাদা কাগজ, অস্পষ্ট ছবি সহ একাধিক ভুয়ো নথি আপলোড করা হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এইসব ক্ষেত্রে যদি বৈধ নথি আপলোড না করা হয় তাহলে এইসব নামও তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে। গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে কমিশনের এরাজ্যের সিইও, রোল অবজার্ভার ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বৈঠকেই এই তথ্য উঠে আসে।

যে পাঁচ জেলার নাম তালিকায় আছে, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের আগামী সোমবার ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই ধরণের তথ্য সরিয়ে নেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে এই বিষয়ক এক বৈঠকে একথা জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের প্রশ্ন, যেসব নামের ক্ষেত্রে এই ধরণের ভুয়ো নথি আপলোড করা হয়েছে সেই সব ভোটার আদৌ আছে?

কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, অবৈধ তথ্য আপলোড করা নামের ক্ষেত্রে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ তথ্য আপলোড করা না হয় তাহলে বাদ পড়ার সংখ্যা আরও বাড়বে।  

জানা গেছে, এই পাঁচ জেলায় ৬০ লক্ষর বেশি সংখ্যক ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে কোচবিহারে ৭ লক্ষ, মালদহে ৯ লক্ষ, মুর্শিদাবাদে ১৫ লক্ষ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যথাক্রমে ১৫ এবং ২০ লক্ষ ভোটারকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত যার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ নথি আপলোড করা হয়েছে। যদিও যেভাবে ভুয়ো নথির অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে তাতে আরও ১০ থেকে ১২ লক্ষ নাম সরাসরি বাদ যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও এই ধরণের নথির সন্ধান পাওয়া গেছে। যা অন্য পাঁচ জেলার অনুপাতে সংখ্যায় কম। এক্ষেত্রে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, সোমবারের পরেও যদি এই ধরণের নথি পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিএম, ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবারের পর থেকেই এই নথি স্ক্যান করা শুরু হবে। সিস্টেমের মাধ্যমে স্ক্যান করে দেখা হবে তখনও ওই ধরণের অবৈধ নথি আছে কিনা। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেই কাজ শেষ করার সময়সীমা।

কমিশনের বক্তব্য, সাধারণ ভোটার যারা শুনানিতে এসেছেন তাঁরা কখনই এই ধরণের ভুয়ো নথি নিয়ে আসবেন না। এলেও তাঁরা সাদা কাগজ বা ভুয়ো নথি জমা দিয়ে নির্বাচন কর্মীদের নজর এড়িয়ে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ এই আপলোড সাধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়নি।

বিপুল সংখ্যক ভুয়ো তথ্যর বিষয়টি সামনে আসার পর বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। কমিশনের একাংশের প্রশ্ন, বিপুল সংখ্যক এই ভুয়ো তথ্য আপলোড করলো কারা? যে ভোটারদের ভুয়ো তথ্য আপলোড করা হল তাদের আদৌ অস্তিত্ব আছে? নাকি অস্তিত্ব নেই বলেই ভুয়ো তথ্য আপলোড করে নাম বাদ যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে? যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগে রাজ্য সরকার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ছবি প্রতীকী
SIR: বাংলায় খসড়া তালিকা থেকে বাদ প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম! চক্রান্তের অভিযোগ তৃণমূলের
ছবি প্রতীকী
Shantanu Thakur: ৫০ লাখ রোহিঙ্গার নাম বাদ দিতে গিয়ে আমাদের ১ লাখ লোক বাদ গেলে, এটুকু সহ্য করতে হবে

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in