

আগামী সপ্তাহেই ঘোষিত হতে পারে অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। সূত্র অনুসারে ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই যে কোনও দিন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে চালু হয়ে যাবে নির্বাচনী আচরণবিধি। এবারের নির্বাচন কত দফায় অনুষ্ঠিত হবে তাও জানা যাবে সেদিনই।
কমিশনের সূত্র অনুসারে, প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগের কাজ প্রায় শেষের পথে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ১ হাজার ৪৪৪ জন পর্যবেক্ষকের ট্রেনিং চলছে। এই রাজ্যেও ভোট ঘোষণার দিন থেকেই যাতে পর্যবেক্ষকরা কাজ করতে পারেন সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
চলতি মাসের ৬ তারিখেই এক প্রেস বিবৃতিতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসাম, কেরালা, পুদুচেরী, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মোট ১,৪৪৪ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হবে। যার মধ্যে ৭১৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক, ২৩৩ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক, ৪৯৭ জন খরচ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক থাকবেন। ৫ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি এই পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন আধিকারিক ডঃ সুখবীর সিং সান্ধু এবং ডঃ বিবেক জোশী।
আগামী ৭ মে শেষ হবে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ। অর্থাৎ তার আগেই শেষ করতে হবে সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের জন্য ঠিক কত দফায় ভোট হবে তা এখনও স্পষ্ট করেনি কমিশন। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে দুই অথবা তিন দফায় এবারের নির্বাচন হতে পারে। যদিও কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে এক দফায় রাজ্যের সব কেন্দ্রে নির্বাচন করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কমিশন। গতবারের মত এবারেও ভোটগণনার সম্ভাবনা ২ মে।
২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২ আসনের জন্য ৮ দফায় হয়েছিল ভোটগ্রহণ। ২টি আসনে নির্বাচন হয় সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ২৭ মার্চ প্রথম দফার, ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার, ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফা, ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফা, ১৭ এপ্রিল পঞ্চম দফা, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ দফা, ২৬ এপ্রিল সপ্তম দফা এবং ২৯ এপ্রিল অষ্টম দফার ভোট গ্রহণ হয়। সেবার প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ৩০টি করে, তৃতীয় দফায় ৩১, চতুর্থ দফায় ৪৪, পঞ্চম দফায় ৪৫, ষষ্ঠ দফায় ৪৩, সপ্তম দফায় ৩৪ এবং অষ্টম দফায় ৩৫ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ভোটগণনা এবং ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল ২ মে।
আসন সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য বিধানসভায় পশ্চিম্বঙ্গের থেকে বেশি আসন আছে শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশে, ৪০৩টি। পশ্চিমবঙ্গের পরে আসন সংখ্যার নিরিখে তৃতীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র (২৮৮ আসন), চতুর্থ বিহার (২৪৩ আসন), পঞ্চম তামিলনাড়ু (২৩৪ আসন), ষষ্ঠ মধ্যপ্রদেশ (২৩০), সপ্তম কর্ণাটক (২২৪ আসন), অষ্টম (২০০ আসন), নবম গুজরাট (১৮২ আসন), দশম অন্ধ্রপ্রদেশ (১৭৫ আসন)।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন