

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল। গত কয়েকদিন থেকেই বাম-কংগ্রেস সমঝোতা নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হবার পর বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের ফেসবুক পেজ থেকে কিছুক্ষণ আগেই জানানো হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল, বিজেপি, বাম এবং কংগ্রেস আলাদা আলাদা ভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হবে।
এদিনের সোশ্যাল মিডিয়া বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "সমস্ত রকম জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, আষাঢ়ে গল্পের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে।" "পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্রই এবার হাত চিহ্ন। সর্বত্রই উড়বে কংগ্রেসের পতাকা।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মাননীয় সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে সর্বস্তরের কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দল এবং সংগঠনকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস কমিটির মাননীয় সভাপতি শ্রী মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বের সম্মতি ও সিদ্ধান্তক্রমে পশ্চিমবঙ্গে কুড়ি বছর পর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে একক ভাবে সবকটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যেখানে তিনি কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, "প্রথমে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে রাজনীতিগতভাবে। বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা করতে হলে প্রথমে নিজেদের রাজনীতিটা স্পষ্ট করতে হবে। সেই রাজনীতিটা হবে তৃণমূল বিজেপি বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে। এই অবস্থান না থাকলে সমঝোতা হবে না।"
তিনি আরও বলেন, "গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কিন্তু এবছরের ফেব্রুয়ারি এসে গেলেও এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস কিছু জানায়নি। আমরা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। সম্প্রতি জানলাম, কংগ্রেসের তরফ থেকে তৃণমূলের কাছে কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কয়েকটা আসন দিয়ে যদি সমঝোতা করা যায়। আমরা তাই বলছি আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।"
মহম্মদ সেলিমের এই বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় কংগ্রেস। কংগ্রেসের একাধিক মুখপাত্র সিপিআইএম এবং মহম্মদ সেলিমের সমালোচনা করে জানান, কংগ্রেসকে নিয়ে সিপিআইএম-এর না ভাবলেও হবে। কংগ্রেস ঠিক সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন