

বিগত বেশ কিছুটা সময় ধরে প্রদেশ কংগ্রেস ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে এবারের রাজ্য বিধানসভা ভোটে তারা একলা চলতে আগ্রহী। এখনও পর্যন্ত সেই অর্থে বামেদের সঙ্গে সমঝোতা ভেঙে না গেলেও, রাজ্য কংগ্রেসের নিচু স্তর থেকে শীর্ষ স্তর একক শক্তিতে লড়াই করার পক্ষপাতী। যদিও বৃহস্পতিবার বহরমপুরে দাঁড়িয়ে আরও একবার সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমস্ত বিরোধী শক্তিকে একজোট হয়ে ‘এককাট্টা লড়াই’-য়ের বার্তা দিলেন।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিমুখী, ত্রিমুখী না চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-র পাশাপাশি বিরোধী শক্তি কত ভাগে বিভক্ত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজ্যের বাম, কংগ্রেস এবং অন্যান্য শক্তির মধ্যে কিছু বৈঠক আলাপ আলোচনা হলেও তা এখনও কোনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। ফলে যদি ধরে নেওয়া যায় তৃণমূল, বিজেপি, বাম, কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবীর ও নৌশাদ সিদ্দিকির দল আলাদা আলাদা ভাবে লড়াই করবে তাহলে পঞ্চমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
খাতায় কলমে এখনও তৃণমূল বিধায়ক মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর (কারণ তিনি এখনও বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি) এবং নৌশাদ সিদ্দিকি হয়তো নিজেদের মধ্যে জোট করবেন। যদিও তাতে বিরোধী ভোট একজোট হবার বদলে ভোটের মেরুকরণ হবার সম্ভাবনা বেশি। বিষয়টি যে তাঁদের অজানা তাও নয়। তাই তাদের পক্ষ থেকে সিপিআইএম এবং কংগ্রেসকেও একসাথে পথ চলার, সমঝোতা করার ডাক দেওয়া হয়েছে। যদিও নৌশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে বামেদের একপ্রস্থ আলোচনা হলেও হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়নি। তাই তাদের আহ্বানে বামেরা যে সাড়া দেবেই তার এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইএসএফ-কে সঙ্গে নিয়ে যে সংযুক্ত মোর্চা গঠিত হয়েছিল ফলাফলের নিরিখে তা সফল হয়নি। বামেদের সমর্থনে একমাত্র নৌশাদ সিদ্দিকি ছাড়া আর কেউই জয়ী হতে পারেননি। সেবার আইএসএফ-কে নিয়ে কংগ্রেস সরাসরি আপত্তি জানিয়েছিল। এমনকি একাধিক বাম শরিকও আইএসএফ-কে নিয়ে খুব একটা খুশি ছিলনা। নিজেদের মধ্যে স্পষ্ট বোঝাপড়া না থাকার ফলাফল ভুগেছিল বিরোধী শিবির। ফলে ২০১৬ সালে বাম কংগ্রেস জোট রাজ্যে যতটা সাড়া ফেলেছিল ২০২১-এ তার সিকিভাগও দেখা যায়নি।
জাতীয় বা রাজ্য রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে জোট রাজনীতির গুরুত্ব কেউ অস্বীকার করবেন না। যদিও এই রাজ্যে বাম কংগ্রেসের অতীত বিবাদ মনে করে রেখে এখনও বহু কংগ্রেস ও বাম সমর্থক জোট মেনে নিতে পারেন না। ফলে ওপরতলায় নেতৃত্ব আলাপ আলোচনা করে জোট করে ফেললেও সে কথা মেনে নিতে পারেন না নীচু তলার কর্মীরা। মানতে পারেন না স্থানীয় স্তরে তাঁদের রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই। চলে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা। এই বোঝাপড়ার অভাব গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্য করা গেছে। যদিও নির্বাচনী পাটিগণিত আর রাজনৈতিক আবেগ এক নয়। তাই পাটিগণিতের অঙ্কে খুব সহজেই যে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় বাস্তবের ফলাফল তার ধারকাছ দিয়ে যায়না।
এই মুহূর্তে রাজ্যে বিরোধী পরিসরের সিপিআইএম, কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, সিপিআই, আইএসএফ বা অন্যান্য কোনও দলের একক শক্তিতে কটা আসন জয় করার ক্ষমতা আছে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা চলতেই পারে। রাজ্যে বয়ে চলা প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার চোরা স্রোত এবং এসআইআর নিয়ে বিজেপি বিরোধী ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও বাস্তব এটাই। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, নদীয়া, উত্তর দিনাজপুরের মত জেলা বাদ দিলে অন্যান্য জেলাতে বিরোধীরা ব্যাকফুটেই। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী ভোট যত ভাগ হবে ততই শাসকের সুবিধা, প্রধান বিরোধীদের সুবিধা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন