ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision - SIR) আরএসএস-বিজেপির (RSS-BJP) রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। রবিবার থিরুবনন্তপুরমে একেজি সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি করেছেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী (M A Baby)। গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আরএসএস-বিজেপি এই কাজ করছে। নাগরিকত্ব নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে সিপিআইএম।
গতকালের সাংবাদিক সম্মেলনে এম এ বেবী বলেন, একজনও বৈধ ভোটারের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে না বাদ যায় তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যোগসাজোশে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম যাতে না ঢোকানো হয় সেই বিষয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে সিপিআইএম।
গতকালের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের কার্যকারিতা নষ্ট করছে। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদের দুই কক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু তা অস্বীকার করে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে স্বৈরাচারী প্রবণতাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারি কেরলের থিরুবনন্তপুরসে সিপিআইএম-এর তিন দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শেষে জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনকে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক জনবিরোধী বিল পাশ করানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। যেসব বিল নিয়ে পর্যাপ্ত বিতর্ক হয়নি। এই অধিবেশনের আগেই শ্রমকোড চালু করে দেওয়া হয়েছে এবং অধিবেশনে মনরেগাকে ভি বি জি রামজী আইনে বদল ঘটানো হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছে সিড বিল এবং ইলেক্ট্রিসিটি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল।
তিনি আরও বলেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেই দেশের বীমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে। যা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা মঞ্জুরি দিয়েছে। এছাড়াও পারমাণবিক ক্ষেত্রেও বিদেশী কর্পোরেটদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া অত্যন্ত বিপদের বলে তিনি দাবি করেছেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমান, খ্রিষ্টান সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের বিষয় বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক সংগঠনের মদতে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। বিজেপি সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এই ধরণের আক্রমণ বাড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। হিন্দু রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যে এই সবই আরএসএস-বিজেপির কর্মপরিকল্পনার অংশ।
সাংবাদিক সম্মেলনে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবার দাবি জানান বেবী এবং বলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন