TMC: 'এই মাটি থেকেই এক গদ্দার...' - মেদিনীপুরে অভিষেকের নিশানায় শুভেন্দু, বিজেপি, সিপিআইএম

People's Reporter: অভিষেক বলেন, ‘পশ্চিম মেদিনীপুরে ওপরে বিজেপির গদ্দার আর নিচে সিপিএম-এর হার্মাদ।…যারা একসময় সিপিএম করে মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করতো তারাই এখন বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে।
মেদিনীপুরের সভায় অভিষেক ব্যানার্জি
মেদিনীপুরের সভায় অভিষেক ব্যানার্জিছবি মিটিং-এর ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট
Published on

মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠের ‘রণসংকল্প সভা’ থেকে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে ‘গদ্দার’ বললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি বলেন, ২০২০ সালে এই মেদিনীপুরের মাটিতে একই মাঠে একজন 'গদ্দার' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদলেহন করে নিজের জেলযাত্রা বাঁচানোর জন্য বিজেপিতে যোগদান করেন।

এদিনের সভায় অভিষেকের নিশানায় ছিল বিজেপি এবং সিপিআইএম। শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলার পাশাপাশি সিপিআইএমকেও আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম মেদিনীপুরে ওপরে বিজেপির গদ্দার আর নিচে সিপিএম-এর হার্মাদ।…যারা একসময় সিপিএম করে মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করতো তারাই এখন বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে। এরা আগে সিপিএমের হার্মাদ ছিল, এখন বিজেপির জল্লাদ হয়েছে।’

একের পর দলত্যাগী সিপিআইএম নেতার নাম উল্লেখ করে এদিন অভিষেক বলেন, এরা সবাই এখন বিজেপিতে। মেদিনীপুরে এই হল বিজেপির আসল চেহারা। মনে রাখতে হবে, মেদিনীপুরে কোনও বুথে যেন বিজেপির কোনও নেতা লিড না পায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় ১৫ আসনের মধ্যে ১৩ আসনে তৃণমূল জিতেছিল। এবার আর ১৩-২ নয়, ১৫-০ করতে হবে এই জেলায়।

চাঞ্চল্যকর দাবি করে এদিন তিনি বলেন, এই অঞ্চলের বিজেপির দু'জন বিধায়ক, নাম বলবো না। দু'জনই তৃণমূলে আসতে চেয়েছে। আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে আমরা দরজা বন্ধ করে রেখেছি। অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণ আমার দফতরে এসেছিল, দেখেছেন তো! আমরা নিইনি। এ বার খড়্গপুরে তৃণমূলকে জেতাতে হবে। বিজেপির বিধায়ক, বিজেপির সাংসদ ছিল। কোনও কাজ হয়নি।

এদিনের সভা থেকে তৃণমূল সাংসদ বলেন, আমাদের সরকার আবাস যোজনায় বাড়ি দিয়েছে। আগামী ১৫ দিনে আমাদের সরকার ২০ লক্ষ মানুষকে বাড়ি দেবে। মোদিদের মনে রাখতে হবে, তোমাদের দয়ায় বাংলার মানুষ বেঁচে নেই। মায়েদের বলছি, মমতা যত দিন আছেন, আপনার লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করতে পারবেন না।

এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করতে এসে ১৯১১ সালে লেজ তুলে এখান থেকে পালিয়েছিল। মোদী-শাহ কোন ছার! বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছি। আপনারা কেউ চিন্তা করবেন না। আমরা আছি। আমরা কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে দেব না। তৃণমূল যা করার করবে।

ঘাটাল মাষ্টার প্ল্যান প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেন, আমি গত বছর কথা দিয়েছিলাম যে প্ল্যান হবে। এই কাজের জন্য ৫০০ কোটি বরাদ্দ করেছে আমাদের সরকার। ২০২৫ সালে কাজ শুরু হয়েছে। তিন চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এই কাজ কেউ করলে আমাদের সরকারই করবে। মোদী করেনি। ওদের কাছে আশা করিনা।

এদিনের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সাংসদ জুন মালিয়া, রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্ব।

কবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী

বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শীতল সম্পর্ক অনেকদিনের। ২০২১ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০২০-র ১৯ ডিসেম্বর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মূল ক্ষোভ ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ওইদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, ‘ভাইপো হটাও, রাজ্য বাঁচাও।’ ওইদিন বিজেপির সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও ৯ জন বিধায়ক এবং ১জন তৃণমূল সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেন।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুরে ফলাফল কী ছিল ?

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর, কেশপুর, শালবনি, গড়বেতা, চন্দ্রকোণা, দাসপুর, ডেবরা, খড়গপুর, পিংলা, সবং, নারায়ণগড়, কেশিয়ারি এবং দাঁতন কেন্দ্রে জয়ী হয় তৃণমূল। খড়গপুর সদর এবং ঘাটাল কেন্দ্রে জয়ী হয় বিজেপি। তৃণমূলের জয়ের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ব্যবধান ছিল খড়গপুর কেন্দ্রে, ৩৬,২৩০ এবং সবথেকে কম ব্যবধান ছিল দাঁতন কেন্দ্রে, ৭৭৫। অন্যদিকে খড়গপুর সদরে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল ৩,৭৭১ এবং ঘাটালে ৯৬৬।

মেদিনীপুরের সভায় অভিষেক ব্যানার্জি
Avishek Banerjee: কয়লা পাচার মামলায় ইডির সমনের বিরুদ্ধে অভিষেকের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
মেদিনীপুরের সভায় অভিষেক ব্যানার্জি
ED Raids on IPAC: “বিক্ষোভকারীদের জেলে ঢোকাও, আর ধর্ষকদের জামিন দাও" - দলীয় সাংসদদের হেনস্থায় অভিষেক

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in