

শুক্রবার হাজরা মোড়ের সমাবেশ থেকে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ‘বাড়াবাড়ি করলে সবকিছু ফাঁস করে’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। এবার এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠালেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তর দেওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের পরামর্শদাতা আইপ্যাক-এর অফিসে ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে শুক্রবার যাদবপুর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল শেষে প্রকাশ্য সভা থেকে সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “শুনুন আপনাদের এখনও ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলো এখনও বাইরে বের করে দিইনি। আমার কাছে সব পেনড্রাইভে রাখা আছে। বাড়াবাড়ি করলে ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা মেন্টেন করি। কিন্তু লক্ষ্মণরেখা বলে একটা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে আর সামলে রাখতে পারবেন না।”
তাঁর মতে দেশের স্বার্থে তিনি এখনও মুখ খোলেননি। তিনি বলেন, "আমি মুখ খুললে সারা দেশে হইচই হবে। বলি না, কারণ দেশটাকে ভালবাসি। এটা আমার দুর্বলতা নয়।"
এরপর শুক্রবার রাতেই আইনজীবী সূর্যনীল দাস মারফত মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠান বিরোধী দলনেতা। নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৮ এবং ৯ জানুয়ারি প্রকাশ্যে তাঁর মক্কেল শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বেপরোয়া, ভিত্তিহীন এবং প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করে তাঁকে অপমান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ইঙ্গিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহ কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, এই ধরনের অভিযোগের সমর্থনে তাঁর কাছে প্রমাণও রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতেই এই নোটিস পাঠিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত নথি, তথ্য ও প্রমাণ তাঁর মক্কেলের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি, দু’ধরনের মানহানির মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু মানহানিকরই নয়, ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও অশালীন ইঙ্গিতে ভরা। শুভেন্দু অধিকারীকে ‘দত্তক সন্তান’ বলা মন্তব্যকে রুচিহীন ও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির জন্য অনুচিত বলে মনে করছেন তিনি। এতে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দুর সামাজিক মর্যাদা ও তাঁর পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ধরনের মন্তব্য আসলে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবার এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে চলা গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন