‘প্রাইভেট কোম্পানিতে রেইড হয়েছে বলে তৃণমূল কেন বিক্ষোভ দেখাচ্ছে? যারা স্কুল বন্ধ হলে পথে নামে না, কৃষক ফসলের দাম না পেলে পথে নামে না, তাঁরা কেন বিক্ষোভে? বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা যখন আক্রান্ত হয় তখন তৃণমূলের কোন সাংসদ যায়না?' বৃহস্পতিবার কলকাতায় আই প্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে পৌঁছে যাওয়া প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এদিনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিশ, বিধাননগর পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কাজ করেছেন। তাঁর সাথে সঙ্গ দিয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। এদের সবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও জায়গায় তল্লাসি হলে সেই জায়গা ঘিরে রাখা হয়। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। কলকাতা, বিধাননগরের কমিশনার ঘটনাস্থলে গেলেন কেন? এটা বেআইনি কাজ। কেন কোনও প্রস্তুতি না নিয়ে বাহিনী না নিয়ে তল্লাশি করা হল? পর্যাপ্ত বাহিনী থাকলে মমতা, পুলিশ ঢুকতে পারত না। যে গাড়িতে সব নথি তোলা হয়েছে সেই গাড়ি তৃণমূলের নামে রেজিস্ট্রি করা। সরকারি এজেন্সি যখন তল্লাশি করছে, তখন পুলিশ, মুখ্যমন্ত্রী ফাইল বার করে তৃণমূলের গাড়িতে তুলছে। দলের হয়ে কাজ করছে পুলিশ। তল্লাশি চলাকালীন এই ভূমিকা আইনত অপরাধ। আমাদের দেখতে হবে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কোন অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না?’
এদিন দলীয় রাজ্য দফতরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইডি জানিয়েছে এই তদন্ত কয়লাপাচার কাণ্ডের সাথে যুক্ত। আই-প্যাক ভোট কুশলী, সেখানে কালো টাকা কী করে এলো? ঠিকভাবে তদন্ত করলে ধরা পড়বে কোথায় কোথায় কালো টাকা ঘুরছে। সেই টাকার মালিক কে।’ মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, কয়লা পাচারের টাকা, গোরু পাচারের টাকা এই কোম্পানিতে খাটে। যত দুর্নীতির টাকা সেগুলো এই কোম্পানিতে খাটানো হয়।’
ইডি, সিবিআই সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ এনে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘আজকে রেইড হবে সেটা জানিয়ে করেছে ইডি। এরকম কখনও হয় না। আই-প্যাক আজ তাদের বড়ো অংশের কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইডি সিবিআই যারা পরিচালনা করছে তারা চায় না সঠিক তথ্য সামনে আসুক, চায় শুধু নাটক হোক।’
আই প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘এসআইআরের কাজে আই-প্যাকের কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম রেখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কমিশন তাতে মদত দিচ্ছে। মমতার ভয় এই কাগজ থেকে বোঝা যাবে কীভাবে জালিয়াতি করা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে আই-প্যাকের লোকেদের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।’
এদিন সেলিম বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আজ যা করেছেন এর আগেও এই একই কাজ করেছেন। ভবানীপুর থানায় গিয়ে অপরাধী ছাড়িয়ে এনেছেন। আর জি করের সময় পুলিশ দিয়ে প্রমাণ লোপাট করেছেন। ডিজিপি রাজীব কুমারের বাড়ি সিবিআই গেলে তিনি সেখানে গিয়ে ধর্ণা দিয়েছিলেন।’
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ তুলে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘পার্থ গ্রেপ্তারের সময় তো মমতা ছুটে যায়নি। প্রতীক তো তৃণমূলের কেউ নয়। কিসের যোগাযোগ তাদের? মমতা আজ বলছে প্রতীক দলের লোক। আই-প্যাকের অফিস যে দলের আইটি সেল, আগে তো কখনও শোনা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি ইডি সিবিআই-কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে হতেই পারে। কিন্তু উনি আজ কী ভূমিকা পালন করলেন? রাজ্যের পুলিশকে তিনিও তো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করলেন।’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন