

আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং তদন্তে বাধাদান। একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী নন, তিনি প্রশাসনিক কর্ত্রী। এর নিন্দা জানাই। ED নিশ্চয়ই তার ক্ষমতাবলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে বলে মনে হয়েছে আমার। আইনের মধ্যে থেকেই নেবেন তাঁরা’’
তবে ইডি-র তদন্ত প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তিনি বলেন, “আমি তদন্তের বিষয়ে ঢুকছি না। তবে আমি মুখ্যমন্ত্রীর এবং সিপি-র যাওয়াকে অনৈতিক, অসাংবিধানিক মনে করি। কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি বাধা দান। এর আগে রাজীব কুমারের সময়ও করেছেন। পাঁচ ঘণ্টা ধর্না দিয়েছেন তিনি নিজাম প্যালেসে যখন ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিমদের গ্রেফতার করা হয়। এটা মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। তদন্তকারী সংস্থা যদি মুখ্যমন্ত্রী ও সিপি-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন, ভুল বার্তা যাবে।‘’
আইপ্যাকের কাছে কেন তৃণমূলের নথিপত্র থাকবে, সেই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আইপ্যাক কি পার্টি অফিস নাকি? একটা কর্পোরেট সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা দেখিয়ে দেবে নথি! তল্লাশিতে গ্রেফতারই হয় এমন তো নয়! মুখ্যমন্ত্রী তো আমার বাড়িতে সিআইডি পাঠিয়েছেন, আমার প্রবীণ বাবা-মাকে হেনস্থা করেন।“
সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি যদি বিজেপি-র পার্টি অফিসে তল্লাশি চালান, সেটা কি ঠিক হবে? এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “উনি আমার নন্দীগ্রামের অফিস তছনছ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এসব কথা মানায় না। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, বিজেপি অফিস কেন, দলের যে কোনও নেতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেখুন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা বাড়ির মতো ৫১ কোটি পাওয়া যাবে না। আর আপনার বাড়িতে তল্লাশি হলে ১০০ কোটি পাওয়া যাবে।"
উল্লেখ্য, আজ সকাল থেকে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। খবর পেয়েই প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা, নির্বাচনী কৌশল, দলের ভিতরকার তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন