

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতরে সাত সকালে হানা দিল ইডি। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও পৌঁছেছেন একদল আধিকারিক। এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের কয়লাপাচার কাণ্ডে সক্রিয় হল ইডি। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে আচমকা হানা দেয় ইডি। একটি বহুতলের ১২ তলায় অবস্থিত ওই অফিসে সেইসময় বিশেষ কেউ ছিলেন না। নাইট ডিউটিতে কর্মরত কয়েক জন ছিলেন কেবল। তাঁদের দফতরের মধ্যে রেখেই তল্লাশি শুরু করে দেন আধিকারিকরা। ওই তলাটি ‘সিল’ করে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও উপস্থিত হয় ইডি-র একটি দল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘বাড়িটা কোথায়?’’ তারপরে কিছুটা হেঁটে ঢুকে যান বাড়ির মধ্যে।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে একটি ল্যাপটপও ছিল তাঁর। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা, নির্বাচনী কৌশল, দলের ভিতরকার তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘’ওরা আমার দলের ইনচার্জের অফিসে হানা দিয়ে দলের হার্ড ডিস্ক হাতিয়ে নিতে এসেছিল। দলের প্রার্থীতালিকা, দলের কৌশল এবং দলের পরিকল্পনা হাতাতে এসেছিল। আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। এই কি ED এবং অমিত শাহের ডিউটি? জঘন্য, নটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি যদি বিজেপি-র পার্টি অফিসে তল্লাশি চালাই? তাহলে ফল কী হবে? আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।‘’
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে এক গোছা ফাইল নিয়ে, সেগুলি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে রাখেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। সেই গাড়িকে ঘিরে রেখেছে বিরাট পুলিশবাহিনী। এখনও দফতর এবং কর্ণধারের বাড়ি - দুই জায়গাতেই তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী আছেন IPAC দফতরে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও রয়েছেন। বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং মন্ত্রী সুজিত বসুও রয়েছেন। বহু দলীয় কর্মী বহুতলের বাইরে স্লোগান দিচ্ছেন।
ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই অভিযান কয়লাপাচার কাণ্ডে দিল্লিতে নথিভুক্ত এক পুরনো মামলার সঙ্গে যুক্ত। কয়েক বছর আগে এই মামলার তদন্তে ঝাড়খণ্ড এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেইসময় কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে দিল্লিতে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকজনকে ডেকে জেরা করা হয়। সেই জেরার সূত্রে উঠে এসেছে প্রতীক জৈনের নাম।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ ২০১৯ সালের একটি ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ২০১৯ সালে এই লাউডন স্ট্রিটে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাংলোয় হানা দিয়েছিল সিবিআই। তখনও সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ধর্মতলায় ধর্নাও শুরু করেছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন