

এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা অবশেষে পদত্যাগ করলেন, বহুদিন ধরে চলা বিতর্কের আবহেই এই সিদ্ধান্ত। তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে যে ঝড় উঠেছিল, তা পৌঁছেছিল ইমপিচমেন্টের দোরগোড়ায়। তার আগেই তিনি ইস্তফা দিলেন।
বিচারপতি ভার্মা তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র কাছে। বেশ কিছুদিন ধরেই সংসদে তাঁর অপসারণের দাবিতে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। লোকসভার ১৪০-রও বেশি সাংসদ তাঁর বিরুদ্ধে প্রস্তাবে সমর্থন জানান, ফলে বিচারপতির জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ চাপের হয়ে উঠছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সেই সময় দিল্লিতে তাঁর সরকারি বাসভবনে আচমকা আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেখতে পান বলে দাবি করেন। এমনকি কিছু নোটের স্তূপ দেড় ফুট পর্যন্ত উঁচু ছিল বলেও জানা যায়। এই ঘটনাই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিচারপতি ভার্মাকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয় এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিচারিক দায়িত্ব স্থগিত রাখা হয়।
তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন বিচারপতি ভার্মা। তাঁর দাবি, বাড়ি থেকে কোনও নগদ অর্থ উদ্ধারই হয়নি। সংসদীয় কমিটির সামনেও তিনি একই অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না এবং ঘটনাস্থলের দায়িত্ব ছিল পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষের উপর।
এই প্রেক্ষাপটে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা এবং একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী।
এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি ভার্মা। কিন্তু আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় এবং তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে আসে যে, যেখানে নগদ অর্থ পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ, সেই ঘরটি বিচারপতি ভার্মা ও তাঁর পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরপর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি।
সংবিধান অনুযায়ী, বিচারপতিকে অপসারণ করতে গেলে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন এবং “প্রমাণিত অসদাচরণ” বা অক্ষমতার ভিত্তিতেই তা সম্ভব। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতে কোনও বিচারপতিকে সফলভাবে ইমপিচ করা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে তদন্ত ও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া যখন গতি পাচ্ছিল, তখনই বিচারপতি ভার্মার পদত্যাগ দেশের অন্যতম আলোচিত বিচার বিভাগীয় বিতর্কে নতুন মোড় এনে দিল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন