

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণীর একটি পাঠ্যপুস্তককে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বিতর্ক চরমে। এই বইয়ে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যে ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এবং এনসিইআরটি-র কাছে জবাবদিহি দাবি করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কেন্দ্র এই বিতর্কিত অধ্যায়ের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং আদালতের নির্দেশ মেনে পুরো বইটি বাতিল করা হয়েছে।
ভারত এবং বিদেশে বইটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। বাজারে থাকা সমস্ত কপি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বইটি অনলাইনে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শেয়ার করার উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই অধ্যায় যাঁরা তৈরি করেছিলেন তাঁদের নাম আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি জানিয়েছিলেন, "এটা মনে হচ্ছে গভীর ষড়যন্ত্র। খুবই পরিকল্পিত পদক্ষেপ।"
এই বিতর্কের মাঝেই সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এক পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে। তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ গত দশ বছরে বর্তমান বিচারকদের বিরুদ্ধে ৮,৬০০ টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
NDTV-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লোকসভায় পেশ করা পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সবথেকে বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে ২০২৪ সালে, ১,১৭০টি অভিযোগ। ২০২৫ সালে বিচারকদের বিরুদ্ধে ১,১০২টি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ২০১৯ সালে ১,০৩৭টি; ২০২২ সালে ১,০১২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সবথেকে কম অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ২০২০ সালে, ৫১৮টি। এছাড়া ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৩ সালে যথাক্রমে ৭২৯, ৬৮২, ৭১৭, ৬৮৬ এবং ৯৭৭টি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
এই অধিকাংশ মামলাগুলিই দুর্নীতি বা পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগে করা হয়েছে। বিচারবিভাগীয় দুর্নীতিতে সবথেকে উল্লেখযোগ্য মামলা হল বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার মামলা। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাঁর দিল্লির বাসভবন থেকে প্রচুর পোড়া টাকা উদ্ধার হয়। হোলির দিন আগুন লাগে তাঁর বাড়িতে। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না বিচারপতি। তাঁর পরিবারের সদস্যরা দমকলে খবর দেন। দমকল কর্মীরা আগুন নেভানোর সময় বাড়িতে টাকার বান্ডিলের স্তূপ দেখতে পান। যেগুলির বেশ কিছ পুড়ে গিয়েছিল। দমকল কর্মীরাই পুলিশে খবর দেন। বিচারপতি ভার্মা এই অর্থের সাথে নিজের বা তাঁর পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের যোগসূত্রের কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। অনুমান, প্রায় ১৫ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁর বাড়ির স্টোররুম থেকে।
এই ঘটনার পরেই সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়, যা এখনও বিচারাধীন।
অন্যান্য বড় মামলাগুলির মধ্যে আর একটি হল National Company Law Appellate Tribunal-এ নিযুক্ত এক বিচারকের বিরুদ্ধে। তিনি একটি নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে রায় দেবার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে ওই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন National Company Law Appellate Tribunal-এর আর এক সদস্য বিচারপতি শরদ কুমার শর্মা। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিচার বিভাগের অস্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
এছাড়াও ২০১৮ সালে, ট্রাইব্যুনালের এক বিচারক, আর কে মিত্তল ক্ষতিপূরণের জন্য নির্ধারিত ৫০ কোটি টাকার জালিয়াতিতে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ ছিল, ওই বিচারক পাঁচ আইনজীবীর সাথে যোগসাজশ করেছিলেন, যাঁরা দুর্ঘটনার শিকারদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাগুলি দেখাশোনা করতেন। বিচারক এবং আইনজীবীরা মিলে এই পরিবারগুলির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল আত্মসাৎ করেছিলেন। ইডি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং ২০১৯ সালে মিত্তলকে বরখাস্ত করা হয়। গত বছরের মার্চ মাসে মিত্তলের ২৪টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
২০১১ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি সৌমিত্র সেনকে তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে রাজ্যসভা কর্তৃক ‘ইমপিচ’ করা হয়েছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় তার বিরুদ্ধে 'ইমপিচমেন্ট' প্রস্তাব আনা হয়। মোট ৫৭ জন সাংসদ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম সীতারাম ইয়েচুরি, বৃন্দা কারাত, মহম্মদ আমিন, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি প্রমুখ। তবে লোকসভা তাঁকে ‘ইমপিচ’ করার আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন