বিচার বিভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত! NCERT-র বই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের, ক্ষমা চাইল কেন্দ্র

People's Reporter: যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এবং এনসিইআরটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদ সাকলানিকে নোটিশ জারি করে এর জবাবদিহিতা দাবি করেছে আদালত। কেন্দ্র এই বিতর্কিত অধ্যায়ের জন্য ক্ষমা চেয়েছে।
NCERT-র বিতর্কিত বই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
NCERT-র বিতর্কিত বই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
Published on

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞানের বই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বইটিতে ‘বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি’ বলে একটি অংশ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার এবং এনসিইআরটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীনেশ প্রসাদ সাকলানিকে নোটিশ জারি করে এর জবাবদিহিতা দাবি করেছে আদালত। কেন্দ্র এই বিতর্কিত অধ্যায়ের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং আশ্বাস দিয়েছে যে দায়ীদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি প্রথম বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আনেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের কথা বলেন তাঁরা। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলা দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘’ আমরা আরও গভীর তদন্ত করতে চাই। বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আমার কর্তব্য। মাথাকে অবশ্যই ধরতে হবে। জবাবদিহি না হওয়া পর্যন্ত আমি এই মামলা বন্ধ করব না। আমরা জানতে চাই এর পিছনে কারা রয়েছে।‘’

ভারত এবং বিদেশে বইটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি। বাজারে থাকা সমস্ত কপি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। বইটি অনলাইনে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে শেয়ার করার উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন ড্যামেজ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, ‘’দায়ী ব্যক্তিরা কখনও ইউজিসি বা কোনও মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করবেন না। আমরা প্রতিষ্ঠানের পাশে আছি। কেউই ছাড় পাবেন না।‘’

তবে প্রধান বিচারপতি এতে সন্তুষ্ট হননি। তিনি বলেন, ‘’এতে খুব একটা লাভ হবে না। বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে গিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা রক্তাক্ত।‘’

উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আপনি যদি সমগ্র শিক্ষক সম্প্রদায় এবং শিক্ষার্থীদের শেখান যে বিচার বিভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত - তাহলে কী বার্তা যাবে? শিক্ষকরা এটি শিখবেন, অভিভাবকরা এটি শিখবেন।"

তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরও বলেন, "এটা মনে হচ্ছে গভীর ষড়যন্ত্র। খুবই পরিকল্পিত পদক্ষেপ।"

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই গতকাল (বুধবার) প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে এনসিইআরটি। জানায়, এই ত্রুটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং উল্লিখিত অধ্যায়ে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু যোগ করায় তারা ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বৃহস্পতিবার এই বিষয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘’এই ক্ষমা প্রার্থনা আদৌ আন্তরিক, না কি উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের কৌশল, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।‘’

এই অধ্যায় যাঁরা তৈরি করেছিলেন তাঁদের নাম আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বিতর্কিত অধ্যায়ে কী আছে?

অষ্টম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে 'আমাদের সমাজে বিচার বিভাগের ভূমিকা' অধ্যায়ে একটি অংশ রয়েছে 'বিচার বিভাগের দুর্নীতি', সেখানে বলা হয়েছে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত। লক্ষ লক্ষ মামলা জমে থাকার জন্য দায়ী করা হয় বিচারব্যবস্থার ঢিলেমিকে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতির অভাব, জটিল বিচার প্রক্রিয়া, দুর্বল পরিকাঠামোর প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে বইয়ে।

NCERT-র বিতর্কিত বই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
Kerala: কান্নুরে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের হাতে আক্রান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ, নিন্দায় সরব বিজয়ন

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in