

কেরালার কান্নুর রেল স্টেশনে বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হলেন কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ। এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা পিনারাই বিজয়ন। বুধবার কান্নুর রেল স্টেশনে ট্রেন ধরতে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়েন সিপিআইএম নেত্রী। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে হেনস্থা করে বলে জানা গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীণা জর্জ। তাঁর হাতে এবং ঘাড়ে আঘাত লেগেছে।
বুধবার কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ যখন কান্নুর স্টেশনে পৌঁছান সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার স্পীকার এ এন শামসের। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সব মহল থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
কেরালার সিপিআইএম নেতা পি জয়রাজন জানিয়েছেন, আপাতত বীণা জর্জকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ঘটনার পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন কেএসইউ-এর হাতে বীণা জর্জের আক্রান্ত হবার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনাই কংগ্রেসের ‘নিন্দনীয় রাজনীতির’ প্রমাণ দেয়। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কান্নুর রেল স্টেশনে হেঁটে যাবার সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হন। যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনও প্রতিবাদ নয়, একদল হিংস্র মানুষের আক্রমণ।
এদিনের ঘটনা সম্পর্কে বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা বলেন, এই ধরণের ঘটনাকে রাজনীতি হিসেবে দেখা যায় না। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক অবক্ষ্য হিসেবেই দেখতে হয়। এই ঘটনার দায় সম্পূর্ণরূপে কংগ্রেসের। তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস তাঁদের সমর্থকদের দিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাঁদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা উচিত নয়।
প্রসঙ্গত গত কয়েকদিন ধরেই কেরালার আলাপুঝায় এক সরকারি হাসাপাতালে কয়েকজন রোগীর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে কেরালা কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন। এদিনের ঘটনাও তারই অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওপর কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের আক্রমণের ঘটনা প্রসঙ্গে বিজয়ন জানিয়েছেন, কেরালায় ভারতের অন্যতম সেরা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ২০২১ সালে আলাপ্পুঝার একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের দীর্ঘদিন পর উষা জোসেফ জানতে পারেন যে তার পেটের ভেতরে ৭ সেমি লম্বা একটি আর্টারি ফোর্সেপ প্রায় পাঁচ বছর ধরে রয়ে গেছে।
বছরের পর বছর ধরে দীর্ঘস্থায়ী পেটের ব্যথা সহ্য করার পরই এই ঘটনা ধরা পড়ে। এর পরেই রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির বিষয় সামনে এলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে এবং সার্জন এবং একজন নার্সিং অফিসার সহ চিকিৎসা কর্মীদের বরখাস্ত করে। পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে এবং কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন