

বিহারে প্রকাশ্যে মাছ মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো নীতিশ কুমারের এনডিএ সরকার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা একথা ঘোষণা করেছেন। যদিও কবে থেকে এই নিয়ম জারি হবে তা এখনও স্পষ্ট করেনি বিহার সরকার। বিহার সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, 'এরকম হলে তা হবে চরম অন্যায়'। 'এখানে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য বলে কোনও বিষয় নেই।'
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা বিজয়কুমার সিনহা জানিয়েছেন, রাজ্যের কোথাও প্রকাশ্যে মাছ মাংস বিক্রি করা যাবেন না। সরকার এই বিধি চালু করতে চলেছে। খুব শীঘ্রই তা কার্যকর করা হবে। নতুন নিয়ম চালু হলে শুধুমাত্র লাইসেন্সধারীরাই মাছ মাংস বিক্রি করতে পারবেন। এই নিয়ম সকলের জন্য প্রযোজ্য। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য জানান, বিহারীরা মাছ না খেয়ে বাঁচবে নাকি? বাঙালি মাছ মাংস খাবে না, বিহারী মাছ মাংস খাবে না এ হতে পারে? বিবেকানন্দ বলে গেছেন, মা কালী পাঁঠা খাবে। বাঙালি পাঁঠা খাবে, বিহারী পাঁঠা খাবে। কেউ আটকাতে গেলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে। আমরা দরকার হলে এরকম হলে এখান থেকে লোক পাঠিয়ে দেব। এখানে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য বলে কোনও বিষয় নেই। মাছ বাঙ্গালীও খাবে, মাছ বিহারীও খাবে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গতকাল নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি হবে না? যে বিজেপির জন্য এত লড়াই করছেন, এখানে এলে তো মাছ-মাংস বন্ধ করে দেবে। সবাই কি শপিং মলে মাছ-মাংস বেচবে? আমাদের তো চাষিরা রাস্তায় বসে। স্কন্ধ কাটার রাজনীতি চলছে। এই রাজনীতিকে ধিক্কার জানাই।’
তবে তৃণমূল সুপ্রিমো একথা বললেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা জানিয়েছিলেন, ‘‘শুধু গোমাংসই নয়, দেশে সমস্ত আমিষ পদ নিষিদ্ধ করা উচিত। সরকার বিভিন্ন জায়গায় গোমাংস বিক্রি বন্ধ করেছে। তবে এখনও অনেক জায়গায় গোমাংস বিক্রি বা খাওয়ায় কোনও আইনি বাধা নেই। উত্তর-পূর্বের মানুষ প্রকাশ্যে এগুলো খেতে পারেন। কিন্তু উত্তর ভারত পারে না”। তিনি আরও বলেন, ‘‘উত্তর-পূর্বে গোমাংস খেলে ইয়াম্মি, আর উত্তর ভারতে খেলে মাম্মি! এ তো হতে পারে না। নিষেধাজ্ঞা সর্বত্র প্রয়োগ করা উচিত”।
বিহারের এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যদিও এবারই প্রথম নয়। এর আগে এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে। গত বছরের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশ সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদিত্যনাথ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলাশাসককে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শপথ গ্রহণের আগেই হাওয়ামহল কেন্দ্রের নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্যকে এক ভাইরাল ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, রাস্তার ধারে এইভাবে আমিষ খাবার বিক্রি করা যায় না। সব দোকান বন্ধ করতে হবে। তিনি এক পুলিশ আধিকারিককে প্রশ্নও করেন যে রাস্তায় এইভাবে আমিষ বিক্রি করা যায় কিনা? এদের কাছে লাইসেন্স আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। অবিলম্বে সব দোকান বন্ধ করতে হবে। ওই আধিকারিকের কাছে রিপোর্টও তলব করেন বালমুকুন্দ আচার্য।
চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে বিজেপি শাসিত ওড়িশার কোরাপুট জেলার জেলাশাসক মনোজ সত্যওয়ান মহাজন সমস্ত ব্লক উন্নয়ন অফিসার, তহসিলদার এবং কার্যনির্বাহী আধিকারিকদের কাছে নোটিশ পাঠিয়ে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে ২৬ জানুয়ারি সারাদিন জেলার সর্বত্র চিকেন, মটন, মাছ এবং ডিমসহ সমস্ত আমিষ জাতীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকার আদেশ জারি করেন। যদিও চরম বিতর্কের মুখে পরে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন