Koraput: তীব্র সমালোচনার মুখে প্রজাতন্ত্র দিবসে আমিষ নিষিদ্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার কোরাপুট প্রশাসনের

People's Reporter: আমজনতার তীব্র রোষের মুখে পড়ে প্রজাতন্ত্র দিবসে আমিষ খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করল কোরাপুট জেলা প্রশাসন।
নির্দেশ প্রত্যহারের চিঠি
নির্দেশ প্রত্যহারের চিঠিছবি প্রতীকী, গ্রাফিক্স আকাশ
Published on

আমজনতার তীব্র রোষের মুখে পড়ে প্রজাতন্ত্র দিবসে আমিষ খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করল কোরাপুট জেলা প্রশাসন। ২৬ জানুয়ারি জেলার সর্বত্র আমিষ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন।

কোরাপুট জেলার জেলাশাসক মনোজ সত্যওয়ান মহাজন সমস্ত ব্লক উন্নয়ন অফিসার, তহসিলদার এবং কার্যনির্বাহী আধিকারিকদের কাছে শনিবার একটি নোটিশ পাঠান। যেখানে লেখা ছিল, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে ২৬ জানুয়ারি সারাদিন জেলার সর্বত্র চিকেন, মটন, মাছ এবং ডিমসহ সমস্ত আমিষ জাতীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশটি কঠোরভাবে মেনে চলারও নির্দেশ ছিল নোটিসে।

বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র ক্ষোভ দেখা যায় কোরাপুটবাসীদের মধ্যে। মূলত উপজাতি অধ্যুষিত এই এলাকায় সিংহভাহ মানুষই আমিষ খাবার খান। স্বাভাবিকভাবে এই বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা যায় তাঁদের মধ্যে। এরপর রবিবারই নতুন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে আমিষ খাবার বিক্রি সংক্রান্ত আগের নির্দেশিকা প্রত্যাহারের কথা জানান জেলাশাসকমনোজ সত্যবান মহাজন।

আমিষ খাবার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন উপজাতি নেতারা। তাঁদের যুক্তি ছিল, মানুষ কী খাবে বা কী খাবে না, তা বলা সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর কাজ নয়। উপজাতি-অধ্যুষিত একটি জেলায় এমন পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে বলে সতর্কও করেন তাঁরা।

কোরাপুটের পট্টাঙ্গির কংগ্রেস বিধায়ক রাম চন্দ্র কদম বলেন, "কোরাপুট জেলা একটি আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকা। মানুষ কী খাবে আর কী খাবে না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের আছে। সরকার বা ডিএম এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। জেলা শাসকের এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত হয়নি।''

কোরাপুট প্রশাসনের এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেবার পর এই অঞ্চলের লোকসভা সাংসদ, কংগ্রেস নেতা সপ্তগিরি উলাকা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "স্বেচ্ছাচারী ও অসাংবিধানিক আদেশটি এখন প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাংবিধানিক স্বাধীনতাকে ইচ্ছামতো স্থগিত করা যায় না, বিশেষ করে কোরাপুটের মতো এক বৈচিত্র্যময়, উপজাতি অধ্যুষিত জেলায়। প্রজাতন্ত্র দিবস হলো স্বাধীনতার প্রতীক, জবরদস্তির নয়। জয় জোহর, জয় কোরাপুট, জয় হিন্দ।"

বিজেডি-র প্রাক্তন সাংসদ তথা আরেক উপজাতি নেতা প্রদীপ মাঝিও জেলাশাসকের পূর্ব-নির্দেশের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, "মানুষের উপর নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা হচ্ছে। আমাদের দেশে এমনটা আগে কখনো ঘটেনি। আমি এর নিন্দা জানাই। সরকারের এমন কাজে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়।''

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ''সরকারের জনগণের উপর অত্যাচার করা উচিত নয়, অন্যথায় আগামী দিনে তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।''

আমিষ-নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি উলকা বলেন, ''প্রজাতন্ত্র দিবসে কোরাপুটে আমিষ খাবার বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞাটি স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক। এর কী প্রয়োজন ছিল? কেন একটি উপজাতি-অধ্যুষিত, সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় জেলাকে এই নিষেধাজ্ঞার বেছে নেওয়া হলো? প্রজাতন্ত্র দিবস হলো স্বাধীনতার প্রতীক, জবরদস্তির নয়। একটি নির্বাচিত প্রজাতন্ত্র সাংবিধানিক স্বাধীনতা খর্ব করে সংবিধানকে সম্মান জানাতে পারে না।"

নির্দেশ প্রত্যহারের চিঠি
UP: স্কুলের টিফিনে আমিষ নিয়ে আসার শাস্তি! নার্সারির পড়ুয়াকে বরখাস্ত করলেন অধ্যক্ষ
নির্দেশ প্রত্যহারের চিঠি
ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে, কাঁওয়ার যাত্রাপথে ঢেকে দেওয়া হবে মদ এবং আমিষ খাবারের দোকান!

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in