

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন 'শিসমহল' নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। বুধবারও যার আঁচ লাগলো রাজধানীর বুকে।
দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন 'শিসমহল' নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছে বিজেপি। বিজেপির এই অভিযোগ সত্য কিনা তা সকলের সামনে তুলে ধরতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় রাজধানীতে। আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজকে 'শিসমহল'-এ ঢুকতেই পারলেন না। পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারি বাসভবনটি বিপুল ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সুইমিং পুল, একটি ছোটো পানশালা, সোনার জল করা কমোড রয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য মিডিয়া নিয়ে কেজরিওয়ালের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন আপের দুই নেতা। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ তাঁদের ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তিও হয় পুলিশের সাথে তাঁদের।
আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেন, 'কেন আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না? বিজেপি ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। এখানে সত্যিই সোনার জল করা কমোড, সুইমিং পুল আছে কিনা তা আমরা মিডিয়াকেও দেখাতে চাই। যদি বিজেপি সত্যি বলে তাহলে বাসভবন খুলে দিতে আপত্তি কোথায়? এত পুলিশ রাখা হয়েছে শুধুমাত্র দু'জনকে আটকানোর জন্য!'
এর প্রতিবাদে আপ নেতারা লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল শুরু করেন। যদিও সেখানে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের ফের আটকে দেয় পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেজরিওয়ালের বাড়ি নিয়ে ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। যেখানে কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে তা নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় কোটি টাকার বৈদ্যুতিন যন্ত্রাংশ কেনা হয়েছে। এছাড়া সাতটি সার্ভেন্ট কোয়ার্টারের জন্য খরচ হয়েছিল ১৯.৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি বাসভবনের জন্য ২৪টি সোফা, ৪৫টি চেয়ার, ৭৬টি টেবিল, ৭৫টি স্পিকার, ৫০টি ইনডোর এসি কেনা হয়েছিল। আরও বহুমূল্যবান সামগ্রী রয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে কেজরিওয়ালের বাসভবন সারাই করতে খরচ হয়েছে ৩৩ কোটিরও বেশি টাকা।
অন্যদিকে বুধবারই আসন্ন দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আপকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এক্স মাধ্যমে লেখেন, "তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লির নির্বাচনে আপকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মমতা দিদির কাছে কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ দিদি। আপনি সব সময় আমাদের ভালো-খারাপ উভয় সময়েই পাশে থেকেছেন এবং আশীর্বাদ করেছেন"।
তৃণমূলের দেখানো পথে হেঁটে আপ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি, এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনাও। লালুপ্রসাদের আরজেডি, শরদ পওয়ারের এনসিপি (শরদ)-ও একই পথ নিতে পারে বলে আপ নেতৃত্বের একাংশ দাবি করেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন