

ঋতু চলাকালীন মহিলা কর্মচারী ও ছাত্রীদের ছুটি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ছুটি বাধ্যতামূলক করা হলে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ভবিষ্যতে কোনও সংস্থাই হয়তো শুধুমাত্র এই কারণে মহিলাদের আর চাকরিতেই নেবে না।
শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামের এক আইনজীবী সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন, ছাত্রী এবং কর্মরত মহিলাদের জন্য ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক। নিজের আবেদনে ২০১৩ সালে কেরল সরকারের এক সিদ্ধান্তের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের ঋতুকালীন ছুটি দেওয়ার কথা বলা আছে। শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আবেদন করেন, আইন করে দেশের সর্বত্রই ঋতুকালীন ছুটি কার্যকর করা হোক।
প্রধান বিচারপতি এই আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেন, স্বেচ্ছায় সুবিধা দেওয়া একরকম বিষয়, আর আইন চাপিয়ে দেওয়া আলাদা। কেরলের এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানগুলির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এই নিয়ে গোটা দেশে আইন তৈরি হলে মহিলাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
প্রধান বিচারপতির যুক্তি, মহিলাদের নিজেদের মধ্যেই ভয় বা ধারণা তৈরি হবে যে তাঁরা পুরুষদের তুলনায় কমজোরি। এতে চিরাচরিত লিঙ্গবৈষম্যের বিতর্ককেই উস্কানি দেওয়া হবে। কর্মরত মহিলাদের পদোন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এই আইন।
আবেদনকারীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা জানেন না। আমরা যদি এমন আইন করি, তাহলে তাঁরা আর মহিলাদের নিয়োগই করবেন না। তাঁরা বলবেন, ঋতুস্রাব খুব খারাপ, মহিলারা নিম্নমানের।“
উল্লেখ্য, গত বছর কর্ণাটক বিধানসভা আইন করে কর্মরত মহিলাদের মাসে একদিন সবেতন ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু করেছে। ২০২৪ সালে ওড়িশা সরকারও মহিলা কর্মীদের মাসে একদিন করে ঋতুকালীন ছুটিতে সম্মতি দিয়েছিল। বিহারে বহু আগে থেকেই মাসে দু’দিন করে ঋতুকালীন ছুটির নিয়ম চালু রয়েছে। দেশের বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থাও ছুটি মঞ্জুর করেছে।
এছাড়া স্পেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিশ্বের আরও অনেক দেশেই মহিলারা ঋতুকালীন ছুটির সুবিধা পান।
এর আগে ২০২৪ সালেও ঋতু চলাকালীন ছুটি সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়েছিলেন, কাজের জায়গায় ঋতুকালীন সবেতন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হলে তা মহিলাদের বিরুদ্ধেই যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের পিছিয়েও পড়তে হতে পারে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন