

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করলেন লিওনেল মেসি। ইনস্টাগ্রামে নিজের হাতে লেখা ডায়েরির তিনটি পৃষ্ঠার ছবি শেয়ারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর এই অবসরের সিদ্ধান্তে একটি যুগের অবসান হল। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মেসি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ট্রফি এনে দিয়েছিলেন এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন, কিন্তু স্পেনের কাছে দলটি পরাজিত হয়। সম্প্রতি নিজের বাবাকে হারিয়েছেন মেসি। তারপরই অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তিনি।
ইন্সটাগ্রামে মেসি লিখেছেন, “ফাইনালের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে এবং অনেক চিন্তাভাবনার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে, তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে এটাই সঠিক সময়। আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি সবসময়ই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি - গত কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি শুধু তখনই নয়, তার আগেও নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছি। এই জার্সির জন্য আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং সর্বস্ব দিয়েছি; চেয়েছি ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে।“
তিনি আরও লেখেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে এবং জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় সমাপ্তির পথে। এই অধ্যায়টি আমাকে সবচেয়ে কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলের অংশ হওয়াটাকে আমি সবসময় ভালোবেসেছি এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসব। আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু দিয়েছি, আর দেওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যাদের এখানে সুযোগ পাওয়া উচিত।“
নিজের অবসরের চিঠিতে ভক্তদের উদ্দেশ্যেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন কিংবদন্তী। তিনি লেখেন, “গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের সেই গর্জন বা সমর্থন শোনার বিষয়টি আমি খুব মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে সবসময় সমর্থন জানিয়ে যাব—সুসময়ে তো বটেই, দুঃসময়েও আরও বেশি করে।"
নিজের পরিবার, কোচ, সতীর্থ এবং ম্যানেজারদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। চিঠির একদম শেষে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য। ভামোস আর্জেন্টিনা (এগিয়ে চলো আর্জেন্টিনা)!"
মেসি জানিয়েছেন, ২১ জুন, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের দুদিন পরেই এই অবসরের চিঠিটি লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেইসময় তিনি এটি প্রকাশ করেননি কারণ তখন তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। গত ৮ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় মেসির। এরপর ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ছ’টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ৬ টি বিশ্বকাপে মোট ৩৪টি ম্যাচে ২১টি গোল করেছেন। ২০২২ সালে দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা; ২২টি গোল নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফ্রান্সের এমবাপ্পে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন