

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনীতিতে এলেন এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণ। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে তাঁকে। জলপাইগুড়ির কোনও একটা কেন্দ্রে দাঁড়াবেন তিনি।
২০১৭ সালে এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে হেপ্টাথলনে প্রথম হয়েছিলেন স্বপ্না বর্মন। ২০১৮ সালে জাকার্তার এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনা পান। ভারত সরকার তাঁকে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত করে। এখন স্বপ্না উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে চাকরি করছেন।
জানা গেছে, কয়েক মাস আগেই দলের ‘দূতদের’ মাধ্যমে স্বপ্নার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তৃণমূল। পরবর্তীতে জানা যায়, স্বপ্নাকে রাজনীতিতে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বপ্না সেই প্রস্তাবে রাজি হন। জলপাইগুড়ির রাজবংশী পরিবারের মেয়ে স্বপ্না প্রথম থেকেই জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। সেই মতো আশ্বাসও পান। এরপর সম্প্রতি শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে স্বপ্না বর্মনকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চেই তাঁদের কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। তখনই তাঁর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা আরও জোরালো হয়। আজ সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল।
এদিন উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতা গৌতম দেব, রাজ্যের অর্থ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর উপস্থিতিতে কলকাতায় তৃণমূলের সদর দপ্তরে এসে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন স্বপ্না বর্মণ। কেরিয়ারে সোনা জয়ের পরেই পিঠের চোট কাহিল করে তাঁকে। বড়ো কোনও টুর্নামেন্টে আর খেলতে দেখা যায়নি তাঁকে। তাই হয়তো এবার রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে স্বপ্না বলেন, 'আমি শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত। মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসে আজ বাংলাকে যে জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন তা অন্য রাজ্যের পক্ষে অসম্ভব।'
তাঁর কথায়, বাংলার জন্য যে সমস্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তা দেখেই তিনি তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর মতে, রাজনীতি তাঁর জন্য এটা একটা বড় প্ল্যাটফর্ম হবে যেখানে তিনি মানুষের জন্য, তাঁদের সেবায় কাজ করতে পারেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে বিজেপিকে তোপ দেগে ব্রাত্য বসু বলেন, “দিল্লির রাস্তায় বসে ছিলেন দেশের মহিলা কুস্তিগিরেরা। সেই ঘটনা থেকে প্রমাণিত, বিজেপি কী ভাবে দেশের মহিলা ক্রীড়াবিদদের দেখে। ব্রিজভূষণের ছেলেকেও ভোটে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন