

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সিপিআইএম-এর শূন্যপ্রাপ্তি নিয়ে বেশ রসালো আলোচনা হয় সন্দেহ নেই। কারণে অকারণে ঠারে ঠোরে বারবার ‘সিপিএম শূন্য’ এই কথাটা মনে করিয়ে দিতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সঞ্চালক-সঞ্চালিকা থেকে প্রিন্ট মিডিয়ার দুঁদে সাংবাদিক এবং হালের ইউটিউব সাংবাদিকরা কেউই পিছিয়ে থাকেননা। এমনকি একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা তাদের ভাষণ, টিভি বিতর্কেও বিষয়টি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলে থাকেন। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া তো আছেই। ‘তোরা এবার শূন্য থেকে মহাশূন্যে যাবি’ এ কথা তো হামেশাই ট্রোল করতে গিয়ে বলা হয়। কিন্তু এই ‘শূন্য’ প্রাপ্তি কি একা সিপিআইএম-এরই? নাকি যারা এইসব সমালোচনা করছেন তাদের দলও দীর্ঘদিন, কয়েক দশক ধরে শূন্য পেয়ে এসেছেন? তথ্য কী বলছে?
বিজেপির শূন্য প্রাপ্তি!
একবার নয়, দু’বার নয়। পরপর ৭ নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপি ‘শূন্য পেয়েছে’। ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হবার পর রাজ্যে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন হয় ১৯৮২ সালে। যে নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দিয়েছিল ৫২ আসনে। প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ০.৫৮ শতাংশ এবং বলা বাহুল্য আসন সংখ্যা ছিল শূন্য। সেবার রাজ্যে মোট প্রদত্ত ২,২৪,৮৭,৩৩৬ ভোটের মধ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯৯৪।
১৯৮৭ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ৫৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপির প্রাপ্ত আসন শূন্যই ছিল। সেবার ০.৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। মোট প্রদত্ত ২ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯৩ ভোটের মধ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৬৭।
১৯৯১ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ২৯১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপি। সেই প্রথম বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়ে হয় ১১.৩৪ শতাংশ। সেবার মোট প্রদত্ত ৩ কোটি ৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৫ ভোটের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৩৫ লক্ষ ১৩ হাজার ১২১ ভোট।
১৯৯৬-এর নির্বাচনে বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৯২ আসনে তপন শিকদারের নেতৃত্বে। সেবার ফের বিজেপির ভোট নেমে যায় ৬.৪৫ শতাংশে। বিজেপি পায় ২৩ লক্ষ ৭২ হাজার ৪৮০ ভোট। সেবার মোট ভোট পড়েছিল ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৫৩। আসন সংখ্যা শূন্য।
২০০১ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৬৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেইসময় রাজ্যে কয়েকজন বিজেপি সাংসদ আছেন এবং এই রাজ্য থেকে কয়েকজন মন্ত্রীও আছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায়। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। সেবারের নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৫.২ শতাংশ।
২০০৬ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সহযোগী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করেও একটিও আসনে জয়লাভ করেনি বিজেপি। সেবার বিজেপি লড়াই করেছিল ২৯ আসনে।
২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি লড়াই করে ২৮৯ আসনে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৪.০৬ শতাংশ এবং সেবারও কোনও আসনেই জয়ী হতে পারেনি বিজেপি। মোট ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৩২ ভোটের মধ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ২ লক্ষ ৯ হাজার ৭৯৫।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপি। এই প্রথম বিধানসভায় ৩টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। প্রাপ্ত ভোটের হার ১০.১৬ শতাংশ। অবশ্য এর আগে ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য জয়লাভ করেছিলেন।
অর্থাৎ তথ্য অনুসারে ১৯৮২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মোট ৭টি বিধানসভা নির্বাচনে ৭ বার শূন্য পেয়েছিল বিজেপি।
এছাড়াও ১৯৮৪, ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৪ – এই পাঁচটি লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য থেকে বিজেপির প্রাপ্ত আসন ছিল শূন্য। ১৯৯৮-এর নির্বাচনে ১টি, ১৯৯৯-এর নির্বাচনে ২টি এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনে ১টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। ২০১৪ সালে দেশে শাসন ক্ষমতা বদলের নির্বাচনেও এই রাজ্য থেকে বিজেপির প্রাপ্ত আসন ছিল মাত্র ২। ১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠা হলেও তা সাধারণ নির্বাচনের পরে হয়েছিল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন