সবথেকে বেশি বেগার শ্রম দিচ্ছে ভারতের শ্রমিকরা। এক আন্তর্জাতিক সংস্থার করা সমীক্ষায় এরকমই দাবী করা হয়েছে। এডিপি রিসার্চ সংস্থা সম্প্রতি প্রকাশিত ‘পিপল অ্যাট ওয়ার্ক ২০২৬’ সমীক্ষা রিপোর্টে এই দাবী করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা বিশ্বজুড়ে এই সমীক্ষা চালিয়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট ৩৬টি অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৩৯ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
কী জানিয়েছে সমীক্ষা রিপোর্ট?
সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে কমপক্ষে ২৪ শতাংশ শ্রমিক সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা অথবা তার বেশি সময় বেগার শ্রম দেয়। ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে সপ্তাহে বেগার শ্রম দেবার পরিমাণ ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা। এডিপি তাদের সমীক্ষা রিপোর্টে জানিয়েছে, এর অর্থ, ভারতের দুই তৃতীয়াংশ শ্রমিক প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা বেগার শ্রম দান করে।
ভারত ছাড়া তালিকায় আর কোন কোন দেশ?
ভারতের পরেই এই তালিকায় নাম আছে তুরস্কের। এছাড়াও তালিকায় এর পরেই আছে অস্ট্রিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম। সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বেগার খাটার হার এক্ষেত্রে ২৩ শতাংশের আশেপাশে। এই তালিকায় সবথেকে নিচে আছে চেক প্রজাতন্ত্র, চিন এবং তাইওয়ান। যেখানে যথাক্রমে ৪ এবং ৬ শতাংশ শ্রমিক সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বেগার শ্রম দেয়।
সপ্তাহে ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা বেগার শ্রমদানের ক্ষেত্রেও ভারত শীর্ষে। একই হারে শ্রমিকরা বেগার শ্রম দিয়ে থাকেন ইন্দোনেশিয়া এবং ইউনাইটেড আরব আমীরশাহীতে।
সমীক্ষা রিপোর্টের বিশ্লেষণে কী জানাচ্ছে এডিপি?
এডিপি তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, বেতন বা মজুরি ছাড়া দীর্ঘ সময় কাজ করলেই যে কর্মীরা আরও বেশি উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে, এমনটা নয়। বেতনহীন কাজের সময় বাড়ার সাথে সাথে, নিজেদের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতার চেয়ে কম উৎপাদনশীল বলে মনে করা কর্মীদের হারও বেড়েছে, বিশেষ করে সিনিয়র ম্যানেজার এবং সি-স্যুইট এক্সিকিউটিভদের মধ্যে।
কারা এই এডিপি?
নিজেদের সম্পর্কে অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং, ইনক. (Automatic Data Processing, Inc. – ADP) জানিয়েছে ২০১৫ সাল থেকে, এডিপি বিশ্বজুড়ে কর্মীদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার লক্ষ্যে সমীক্ষা পরিচালনা করে আসছে। এই সমীক্ষা থেকে গভীর অর্থনৈতিক মন্দা, পরবর্তী জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকট এবং যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বার্ষিক 'পিপল অ্যাট ওয়ার্ক' (People at Work) প্রতিবেদন 'গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স সার্ভে'-র ওপর ভিত্তি করে তৈরি; ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর এই সমীক্ষা পরিচালনা করছে এডিপি। কর্মীদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শ্রমবাজার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে, ADP Research নিয়োগকর্তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করতে সহায়তা করে। এর ফলে কর্মীরা তাদের চাকরি সম্পর্কে কী ভাবছেন বা কেমন অনুভব করছেন, সে বিষয়ে নিয়োগকর্তারা আরও ভালো ধারণা লাভ করতে পারেন।
বর্তমান সমীক্ষায় ৩৬টি বাজারের ৩৯,০০০-এরও বেশি কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে 'পিপল অ্যাট ওয়ার্ক ২০২৬' প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন শিল্পখাত, কাজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত পটভূমি এবং সশরীরে (অন-সাইট) ও দূরবর্তী (রিমোট) কর্মপরিবেশের সাথে যুক্ত কর্মীদের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন