UP: মুজফফরনগরে উদ্ধার ১২ দাস শ্রমিক; 'অত্যন্ত মর্মান্তিক', চরমতম শাস্তির দাবি জানালেন রাহুল গান্ধী

People's Reporter: সোমবার উত্তরপ্রদেশের শ্রম দপ্তর, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দলের চালানো এক অভিযানে কাগজের প্লেট তৈরির এক কারখানা থেকে ১২ জন দাস শ্রমিককে (Bonded Labour) উদ্ধার করা হয়েছে।
মুজফফরনগরে উদ্ধার হওয়া ১২ জন দাস শ্রমিক
মুজফফরনগরে উদ্ধার হওয়া ১২ জন দাস শ্রমিক ছবি মুজফফরনগর পুলিশের এক্স হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহীত, গ্রাফিক্স সুমিত্রা নন্দন
Published on

উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের দাস শ্রমিক উদ্ধারের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বুধবার এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মুজফফরনগরের বন্ধনশ্রমের ঘটনাটি মর্মান্তিক।’ সোমবার উত্তরপ্রদেশের শ্রম দপ্তর, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ দলের চালানো এক অভিযানে কাগজের প্লেট তৈরির এক কারখানা থেকে ১২ জন দাস শ্রমিককে (Bonded Labour) উদ্ধার করা হয়েছে।

যোগীরাজ্যের এই ঘটনা প্রসঙ্গে বুধবার রাহুল গান্ধী বলেন, “বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হতো, বর্শা দিয়ে আঘাত করা হতো, চাবুক মারা হতো এবং গবাদি পশুর খাবার খাওয়ানো হতো। যে ঘটনা মানব মর্যাদার ওপর এক চরম আঘাত – এই ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি প্রাপ্য।”

এক্স হ্যান্ডেল পোষ্টে রাহুল গান্ধী আরও বলেন, “এই প্রশ্নটিও করা জরুরি যে, কী কারণে শ্রমিকরা এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকা পড়তে বাধ্য হয়? যখন চাকরি চলে যায়, আয় বন্ধ হয়ে যায় এবং এমএনআরইজিএ ও শ্রম আইনের মতো সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণীর মানুষের জন্য তৈরি করা সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে যায়, তখন হতাশা বাড়ে। যাদের অন্য কোনো বিকল্প বা সুরক্ষা নেই, তারা এই ধরনের শোষণের সহজ শিকারে পরিণত হয়। এটি কোনো সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা নয় – এটি একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতির ধ্বংসাবশেষ।”

যেসব জিনিস দিয়ে দাস শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চালানো হত পুলিশ সেগুলি আটক করেছে
যেসব জিনিস দিয়ে দাস শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চালানো হত পুলিশ সেগুলি আটক করেছে ছবি মুজফফরনগর পুলিশের এক্স হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহীত

মুজফফরনগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাসে ১২ হাজার টাকা বেতনের কথা বলে ওই কারখানায় কয়েকজনকে কাজ দেওয়া হয়। উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন রাজ্য থেকে বেশ কয়েকজন যুবক ওই কারখানায় যোগ দেয়। যদিও কর্মীদের অভিযোগ, কাজে যোগ দেবার পরেই তাদের মোবাইল ফোন, পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। তাদের খাবার দিতে অস্বীকার করা হয় এবং মারধোর করা হয়। এই শ্রমিকরা যাতে পালাতে না পারে তাই তাদের পাহারায় দুটি পিট বুল কুকুরকে রেখে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের অনেকের শরীরেই ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।

এসপি রুর‍্যাল শ্রী অক্ষয় সঞ্জয় মহাধিক জানিয়েছেন, যে দাস শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়েছে তাদের ঝাড়খন্ড, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রাজ্য এমনকি নেপাল থেকে আনা হয়েছিল। এরপর কমপক্ষে দু’বছর শ্রমিকদের ওই কারখানায় দাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে শিবম ত্যাগী এবং প্রদীপ বালিয়ান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও লাঠি, চাবুক সহ শ্রমিকদের ওপর শারীরিক অত্যাচার করার একাধিক জিনিস পুলিশ উদ্ধার করেছে।  

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এদের মধ্যে একজন শ্রমিক কোনোরকমে ওই কারখানা থেকে পালাতে সক্ষম হয় এবং পুলিশে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি জানায়। এরপরেই শ্রম দপ্তর এবং প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ওই কারখানায় অভিযান চালায় এবং ১২ জন দাস শ্রমিককে উদ্ধার করে। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের নাম যথাক্রমে রামু, বিক্রম, নারায়ণ, সীতারাম, সন্তোষ, শিবম জাটভ, জগদীশ, রাজহংস, শাহিল, রঞ্জিত পাসোয়ান, দিলশাদ, উজ্জ্বল এবং সোনু চৌহান। পুলিশের কাছে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছে যে দীর্ঘ এই সময়ে কর্মরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারা গেছে। যদিও পুলিশ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি।

মুজফফরনগরে উদ্ধার হওয়া ১২ জন দাস শ্রমিক
'সাংবিধানিক অধিকারে আক্রমণ'; ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রতিবাদে বাম শ্রমিক সংগঠন
মুজফফরনগরে উদ্ধার হওয়া ১২ জন দাস শ্রমিক
Gig Workers Strike: 'দশ মিনিটে ডেলিভারি মডেল' বাতিল সহ ৬ দফা দাবিতে দেশজুড়ে ধর্মঘটে গিগ শ্রমিকরা

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in