সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর নিয়ে সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার তথ্য সহ 'ভোট চুরি'র গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। যার জেরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁর সংঘাতও বেঁধেছে। এবার কার্যত কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগেই সিলমোহর পড়লো। বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। যে প্রতিবেদন প্রকাশের পরে আরও একবার 'ভোট চুরি'র অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস সহ বিরোধীরা।
ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং বর্তমান এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তোলপাড় ফেলে দেওয়া প্রতিবেদনের পর ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও তীব্র করেছে কংগ্রেস। বুধবার সকালে এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) কংগ্রেস মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করে লিখেছে, “মোদীর প্রিয়পাত্র জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন কমিশনে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছেন।” আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি করেছেন। অন্যদিকে শিবসেনা উদ্ধব ঠাকড়ে গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউথ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতেই হবে"।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১০ মাসে কমপক্ষে ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের অভিযোগ, এইসব সিদ্ধান্ত ও আদেশ তাঁদের অজান্তে নেওয়া হয়েছে এবং জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও তিন সদস্যের এই কমিশনের অপর দুই সদস্য সুখবীর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশী।
বুধবার কংগ্রেস তাদের এক্স বার্তাতেও বিষয়টির উল্লেখ করে জানিয়েছে, “অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীকে—গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানানো হয় না। তাদের সাথে পরামর্শ করা হয় না। তাদের অজান্তে বা পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই ১৪টি অভিযোগ প্রধানত এসআইআর-এর পরিবর্তন, ফর্ম ৬, নতুন ভোটারের নাম তোলা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও যোগ করা, নাম পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল, ভোটার তালিকার নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা সম্পর্কিত। এই অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে একমাত্র জ্ঞানেশ কুমারেরই কর্তৃত্ব রয়েছে।”
কংগ্রেসের অভিযোগ, “জ্ঞানেশ তার বস মোদীর মতোই একজন স্বৈরাচারীর মতো আচরণ করছেন এবং মোদীকে খুশি করার জন্য ভোট চুরির আশ্রয় নিচ্ছেন। আমরা আগেও বলেছি: মোদী নির্বাচন কমিশন দখল করে নিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমার মোদীর হাতের পুতুল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এই প্রতিবেদনটি তা প্রমাণ করে। মোদী এবং জ্ঞানেশ মিলে দেশের গণতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করেছেন।”
ওই বার্তায় নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে কংগ্রেস জানিয়েছে, “কিন্তু এটা মনে রাখবেন: সময় এলে প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই অপরাধের শাস্তি অবশ্যই হবে।”
এই ঘটনা প্রসঙ্গে লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, “ভোট চুরি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং আমাদের সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। বিজেপি, আরএসএস এবং নির্বাচন কমিশন—যারা এই কাজ করেছে—তারা দেশদ্রোহিতামূলক কাজ করেছে। এর বিচার হবেই।”
বুধবার কিছুক্ষণ আগেই এই বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে করা এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেক মনু সিংভি জানিয়েছেন, “১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সংস্থা। অনেক আগে একটি আইনি প্রশ্ন উঠেছিল: নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কি প্রধান নির্বাচন কমিশনারই (CEC) সর্বেসর্বা এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের (ECs) কি সমান অধিকার নেই? যার স্পষ্ট উত্তর ছিল— সব নির্বাচন কমিশনারই সমান মর্যাদার অধিকারী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ঊর্ধ্বে নন; তিনি হলেন ‘সমমর্যাদাশীলদের মধ্যে প্রথম’ (First among equals)।”
তিনি আরও জানান, “এমন পরিস্থিতিতে, আজকের ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটি স্পষ্ট যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেবল দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর আঘাতই হানেননি, বরং নির্বাচন কমিশনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর সহকর্মীদেরও বিভ্রান্ত করেছেন।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন