

পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেই দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। গতকাল রাত থেকে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ, কালো পতাকা দেখানো সোমবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে। এদিনও সকালে কালীঘাটের মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়।
রবিবার রাতে দমদম বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে কলকাতা অভিমুখে আসার সময় ডিওয়াইএফআই, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীরা ভিআইপি-তে তাঁকে কালো পতাকা দেখায়। এই সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে রীতিমত ধস্তাধস্তি বেধে যায় বাম যুব ও মহিলা কর্মীদের। যদিও তাতেও তাদের দমানো যায়নি। পুলিশি বাধা টপকেই জ্ঞানেশ কুমারকে কালো পতাকা দেখান বাম কর্মীরা। শোনা যায়, ‘গো ব্যাক জ্ঞানেশ কুমার’ শ্লোগান।
রবিবার রাতের পর সোমবার সকালেও মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়েন জ্ঞানেশ কুমার। এদিন সকালে তিনি কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁকে কালো পতাকা দেখায় বিক্ষোভকারীরা। এদিনও তাঁকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ শ্লোগান ওঠে। যদিও দফায় দফায় তাঁকে ঘিরে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জ্ঞানেশ কুমার।
রাজ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবার পরেই দফায় দফায় ক্ষোভ বাড়ছে। এর আগে বামেদের ডাকে গত ৪ এবং ৫ মার্চ নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও অভিযান হয়। লাগাতার দেড় দিন ধরে কমিশনের দপ্তরের বাইরে রাস্তায় বসে থাকেন বাম কর্মী নেতৃত্বরা। বিক্ষোভ থেকে এসআইআর’র নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, আগে ভোটার তালিকা সঠিক হবে, তারপর ভোট। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ম্যাপিং হয়ে যাওয়া ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
একইভাবে গত ৬ তারিখ থেকে ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভ করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। সেই মঞ্চ থেকেই সঠিক ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
তিন দিনের সফরে রবিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আজ সোমবার এবং আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি রাজ্যের নির্বাচন আধিকারিক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন। খতিয়ে দেখবেন রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতি। সোমবার সকালে প্রথম বৈঠক হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। সূত্র অনুসারে, ১০ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা হয়ে যাবার পরেই যে কোনও দিন রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা করতে পারে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখনও ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে কোনও মীমাংসা হয়নি। বাদ দেওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ নাম। যার মধ্যে বহু প্রকৃত ভোটার রয়েছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন