Gauri Lankesh: গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডের ন'বছর - বিচার এখনও অধরাই

People's Reporter: সিট জানিয়েছিল, এই হত্যার জন্য দায়ী হিন্দু চরমপন্থী সংগঠন সনাতন সংস্থা। চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৭ জনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ১ জন আজও নিখোঁজ।
গৌরী লঙ্কেশ
গৌরী লঙ্কেশ ফাইল ছবি, সংগৃহীত
Published on

৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ঠিক ন’বছর আগে আজকের দিনেই বাড়ির সামনে খুন হয়ে গেছিলেন হিন্দুত্ববাদের কড়া সমালোচক, সাংবাদিক, গৌরী লঙ্কেশ পত্রিকের সম্পাদক গৌরী লঙ্কেশ। খুব স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষ এক্ষেত্রে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির প্রত্যাশা করলেও ঘটনাচক্রে এখনও পর্যন্ত গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকারীরা কেউই সাজা পাননি। অভিযুক্তের তালিকায় যে ১৭ জন ছিলেন তাদের সকলেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। দু’একজনের মৃত্যুও হয়েছে। আর চলতি বছরেরই জানুয়ারি মাসে মহারাষ্ট্রের জালনা পুরসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডের এক অভিযুক্ত শ্রীকান্ত পঙ্গরকর।

২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কীভাবে বেঙ্গালুরুর রাজরাজেশ্বরী এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে তিন আততায়ীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা সমাজকর্মী গৌরী লঙ্কেশ তা বহু চর্চিত। উগ্র হিন্দুত্ববাদ, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকাধারী গৌরী লঙ্কেশকে দক্ষিণপন্থী সংগঠন সনাতন সংস্থার সদস্যরা তাঁকে হত্যা করেছিল বলেই পরবর্তী সময়ে তদন্তে উঠে আসে। তদন্তকারী স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্তের পর এই তথ্য প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ‘গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকান্ড এক সংগঠিত অপরাধ’ বলে সিট জানানোর পরেও দোষীদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব হল কী?

গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল মোট ১৮ জন। যাঁদের মধ্যে বিকাশ পাতিল নামক এক অভিযুক্তকে গত দশ বছরে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেই খবর। আর বাকি যে ১৭ জন, তাঁরা সবাই আপাতত জামিনে মুক্ত। এই হত্যাকান্ডে শেষ জামিন দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি। জামিন পেয়েছিলেন ভাউসাহেব কালাসকর। যার জামিনের নির্দেশ দিতে গিয়ে বেঙ্গালুরুর নগর সেশনস আদালতের বিচারপতি মুরলীধর পাই বি অভিযুক্ত কালাসকরকে জানিয়েছিলেন, এই মামলার সাথে যুক্ত থাকা অন্য ধৃতদেরও জামিন হয়েছে। তার ভিত্তিতে আরেক অভিযুক্ত ভাউসাহেব কালাসকরের জামিন মঞ্জুর করা হয়। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি হেফাজতে ছিলেন। দেশের শীর্ষ আদালত একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছে যে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ যেন লঙ্ঘন না হয় তার দায়িত্ব আদালতের। আমাদের মনে রাখতে হবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও কিন্তু মৌলিক অধিকার রয়েছে। প্রসঙ্গত, যুক্তিবাদী নরেন্দ্র দাভোলকর হত্যাকান্ডেও নাম জড়িয়েছিল এই ভাউসাহেব কালাসকারের।

২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাসে গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডের দুই অভিযুক্ত অমিত বাড্ডি এবং গণেশ মিসকিনকে হুব্বালিতে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাঁদের ‘হিন্দু বাঘ’ বলে সম্বর্ধিত করা হয়। এই দুই ব্যক্তি গৌরী লঙ্কেশ ছাড়াও এম এম কালবুরগি হত্যাকান্ডেও জড়িত বলে অভিযোগ।

এরও আগে ২০২৪-এর জুলাই মাসে, কর্ণাটক হাইকোর্ট এই মামলার তিন অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছিল। এক মাস পরে এই মামলায় আরও চার অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত মোহন নায়েককেও জামিন দিয়েছিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। সেবার কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি এস বিশ্বজিৎ শেঠির সিঙ্গেল বেঞ্চ নায়েকের জামিন মঞ্জুর করে।

গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডের তদন্তকারী সিট সংস্থা এই ঘটনায় ৯,২৩৫ পাতার চার্জশিটে মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে। সিট জানায়, গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকান্ড একটি সংগঠিত অপরাধ এবং তাঁকে হত্যা করার আগে পাঁচ বছর ধরে বেঙ্গালুরু, বেলগাঁও অঞ্চলে এর পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

সিটের চার্জশিটে অমল কালে, সুজিত কুমার এবং অমিত দেগওয়েকারকে এই হত্যাকান্ডের মূল চক্রী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। যে ঘটনা ঘটিয়েছিলো ২৬ বছর বয়সী পরশুরাম ওয়াগমারে। হত্যাকান্ডের দিন তাঁর ছবি গৌরী লঙ্কেশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছিলো।

২০১৮-র ১৮ জুলাই এই হত্যাকান্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫০ বছর বয়সী মোহন নায়েককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো দক্ষিণ কন্নড় জেলার সুল্লিয়া থেকে। এরপর পুলিশ গ্রেপ্তার করে অমিত বাড্ডি এবং গণেশ মিস্কিন নামের আরও দুই ব্যক্তিকে। এই দুই ব্যক্তির বাড়ি হুবলিতে। ২০১৮-র ২৩ জুলাই পুলিশ কোডাগু জেলার মাডিকেরি এলাকা থেকে ৫০ বছর বয়সী রাজেশ ডি বাঙ্গেরাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম দুই ব্যাক্তির মধ্যে অমিত বাড্ডি পেশায় স্বর্ণকার এবং গণেশ মিস্কিন পেশায় ধূপকাঠি প্রস্তুতকারক। এঁদের দুজনের বিরুদ্ধেই অল্প বয়সে খুন করা, অস্ত্র আইনে অপরাধ সহ অন্যান্য অভিযোগ ছিলো। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো এই ঘটনার মূল চক্রী পরশুরাম ওয়াঘমারে এবং মোহন নায়েক পরশুরামকে আশ্রয় দিয়েছিলো।

গৌরী লঙ্কেশের মৃত্যু প্রসঙ্গে সিটের তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছিলেন, ২০১৭-র জুন মাসে গৌরী লঙ্কেশের হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়। সেই ডায়েরি থেকেই বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার করেন তদন্তকারী অফিসাররা। তাঁরা আরও জানিয়েছিলেন হত্যার তালিকায় দেবনাগরী হরফে ১ এবং ২ নম্বর দিয়ে গিরিশ কারনাড এবং গৌরী লঙ্কেশের নাম লেখা ছিলো। এই তালিকায় আরও নাম ছিলো রাজনীতিক সাহিত্যিক বিটি ললিতা নায়েক, বীরভদ্র চান্নামাল্লা এবং সি এস দ্বারকানাথ-এর। এঁরা প্রত্যেকেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কড়া সমালোচক।

গৌরী লঙ্কেশ
Maharashtra: জালনা পুরসভা ভোটে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত
গৌরী লঙ্কেশ
Gauri Lankesh: সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনে জেল হেফাজতে থাকা শেষ অভিযুক্তেরও জামিন!

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in