

এ যেন শেষ হয়েও হইলো না শেষ। ২০২২ সালের ২০ জুন যেভাবে শিবসেনা ভেঙে দলের জনা ২৫ বিধায়ক নিয়ে মুম্বাই ছেড়ে আচমকাই গুজরাট পাড়ি দিয়েছিলেন, প্রায় সেই একই কায়দায় এবার নিজের দলের কর্পোরেটরদেরও হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাখছেন একনাথ শিন্ধে। বৃহণমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে (BMC) একপেশে জয়ের পরেও আশঙ্কা একনাথ শিন্ধে শিবিরের শিবসেনার।
সূত্র অনুসারে, আশঙ্কার জেরে ইতিমধ্যেই সদ্য নির্বাচিত ‘কর্পোরেটর’ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিএমসি-র ক্ষমতা হস্তান্তর পর্ব সম্পন্ন হয় ততক্ষণ সম্ভবত তাঁদের সেখানেই থাকতে হবে। বিএমসি-তে যেহেতু কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি তাই এক্ষেত্রে অল্প সংখ্যক আসন পাওয়া বিভিন্ন দলের কর্পোরেটরদের দিকে অন্য দলের নজর আছে এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই কিংমেকার হতে চলেছে একনাথ শিন্ধের শিবসেনা।
বিএমসি-র অঙ্ক কী বলছে?
গতকালই প্রকাশিত ফলাফলে বিজেপি পেয়েছে ৮৯ আসন এবং তাদের জোটসঙ্গী একনাথ শিন্ধের শিবসেনা পেয়েছে ২৯ আসন। অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা পেয়েছে ৬৫ আসন এবং কংগ্রেস ২৪ আসন। অঙ্কের হিসেবে বিএমসি দখলে রাখতে প্রয়োজন ১১৪ কর্পোরেটর।
সদ্য সমাপ্ত ভোটের ফলাফল অনুসারে বিজেপি শিবসেনা জোটের কাছে আছে ১১৮। অজিত পাওয়ারের এনসিপি-র ৩ ধরলে তা বেড়ে হবে ১২১। যদিও এনসিপি একক শক্তিতেই বিএমসি-তে লড়াই করেছে তবু রাজ্যে তারা রাজ্যে ক্ষমতাসীন মহাযুতির অংশ। অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ৬৫, কংগ্রেসের ২৪, এমএনএস-এর ৬ এবং এনসিপি-র ১ ধরলে তা হয় ৯৬। অর্থাৎ ক্ষমতা বৃত্ত থেকে অনেকটাই দূরে বিরোধী শিবির। তবে বিএমসি-তে মিম-এর ৮, সমাজবাদী পার্টির ২ কর্পোরেটকে বিরোধীদের সঙ্গে ধরলে তা বেড়ে হবে ১০৬। যা ক্ষমতা থেকে ৮ আসন দূরে। যা যে কোনও মূল্যে জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা বলেই মনে করছে ক্ষমতাসীন মহাযুতি। তবুও কেন শাসক পক্ষের এই তৎপরতা প্রশ্ন তা নিয়েই।
কোথায় রাখা হচ্ছে কর্পোরেটরদের?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে একনাথ শিন্ধে গোষ্ঠীর শিবসেনা কর্পোরেটরদের মুম্বাইয়ের তাজ ল্যান্ডস এন্ড হোটেলে দেখা গেছে। আগামী ৩ দিন তাঁরা সেখানেই থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে একনাথ শিন্ধে আশঙ্কা করছেন, বিএমসি-র দখল নিজেদের কাছে রাখতে ঠাকরে ভাইয়েরা একনাথ শিন্ধে গোষ্ঠী থেকে কর্পোরেটর ভাঙিয়ে নিতে পারেন। তাই সেই সম্ভাবনা আটকাতেই নিজের দলের কর্পোরেটরদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বিজেপির সঙ্গে বিবাদ? অথবা অন্য কোনও আশঙ্কা?
অন্য এক সূত্র অনুসারে, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের পরে যেভাবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ কার্যত অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছাড়তে হয়েছিল এবার সেই জায়গা আগে থেকেই বন্ধ করতে চাইছেন একনাথ শিন্ধে। ওই সময় শিন্ধে ঘনিষ্ঠ শিবসেনা নেতা উদয় সামন্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছলেন, বর্তমান মন্ত্রীসভার অংশীদার না হয়ে একনাথ শিন্ধে দলের পুনর্গঠনের দিকে নজর দিতে চান। যদিও শিবসেনা নেতাদের একাংশের দাবিতে তিনি সরকারের অংশীদার হতে বাধ্য হয়েছেন। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হতে একনাথ শিন্ধে আদৌ আগ্রহী ছিলেন না।
যেহেতু একক শক্তিতে বিজেপি ক্ষমতা পায়নি তাই এক্ষেত্রে শিবসেনা শিন্ধের ওপর ভরসা করা ছাড়া গতি নেই। কারণ এই মুহূর্তে কিং মেকার তারাই। তাই নিজের দলের কর্পোরেটরদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে (পড়ুন আটকে রেখে) দরকষাকষির জায়গাটা আগেভাগেই পোক্ত করে নিতে চাইছেন একনাথ শিন্ধে। কারণ বিএমসি-র মেয়র পদের দিকেও শিবসেনা শিন্ধের নজর আছে। এই বিষয়ে শিবসেনা দলের ভেতর থেকেই যথেষ্ট চাপ আছে একনাথ শিন্ধের ওপর।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৫ বছর পর বিএমসি-র ক্ষমতা হাতছাড়া হয়েছে উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর। দেশের মধ্যে সবথেকে ধনী পুরসভা নিজেদের দখলে রাখতে সব পক্ষই তাই মরিয়া। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, শেষ পর্যন্ত বিএমসি-র ক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষ কোনও পন্থা নিতেই পারে ঠাকরে ভাইয়েরা। তাই শাসক জোট সঙ্গীর এই আগাম সতর্কতা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন