মহারাষ্ট্রে পুর নির্বাচন নিয়ে দিনভর চললো চাপানউতোর। বিরোধীদের পক্ষ থেকে যে ভোটকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এদিনের ভোটে সবথেকে বেশি যে অভিযোগ এসেছে তা ভোটের কালি নিয়ে। বহু ভোটার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, প্রচলিত কালির বদলে এমন কালি ব্যবহার করা হয়েছে যা সঙ্গে সঙ্গেই উঠে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিনই ছিল বৃহণমুম্বাই সহ মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভার নির্বাচন। ফলাফল প্রকাশিত হবে আগামীকাল। সারা দিনের ভোটপর্ব চলাকালীনই ভোটাররা কালি নিয়ে অভিযোগ আনেন। বিরোধীদের বক্তব্য অনুসারে, প্রচলিত প্রথার বদলে মার্কার পেন দিয়ে কালি লাগানো হয়েছে। যা খুব সহজেই উঠে যাচ্ছে। এই বিষয়ে একের পর এক অভিযোগ তোলে মহা বিকাশ আঘাদির কংগ্রেস, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং শারদ পাওয়ারের এনসিপি। এছাড়াও রাজ ঠাকরের এমএনএস এবং আপ-ও একই বিষয়ে অভিযোগ জানায়।
যদিও বিরোধীদের আনা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জানিয়েছেন, বিরোধীরা চাইলে অয়েল পেন্ট দিয়ে ওদের আঙুলে কালি লাগানো হবে। কিন্তু নির্বাচন নিরপেক্ষ থাকবে। যে কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা খুব খারাপ অভ্যেস।
যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, এই বিষয়টি খুবই গুরুতর। নির্বাচন কমিশন কি স্যানিটাইজার বা নেল পলিশ রিমুভারের এজেন্সি নিয়েছে? এটা আসনে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শাসকদল যে কোনও ভাবে এই নির্বাচন জিততে বদ্ধপরিকর। বিধানসভা নির্বাচনের সময় তারা যেভাবে ভোট করেছিল এখানেও সেভাবেই ভোট করেছে। এইভাবে জালিয়াতির পথ দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়াটাকে কখনই গণতন্ত্র বলা যায় না।
কালি বিভ্রাট ছাড়াও বহু ভোটার এদিন অভিযোগ করেছেন যে দু’দিন আগেও ভোটার তালিকাতে তাঁদের নাম থাকলেও এদিন ভোট দিতে গিয়ে তাঁরা দেখেছেন যে তাঁদের নাম ভোটার তালিকাতে নেই। এটা কীভাবে সম্ভব প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও।
অন্যদিকে ভোটদান শেষ হবার পরেই মহারাষ্ট্রের পুর নির্বাচনের এক্সিট পোলের ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিএমসি নিয়ে যে ছটি এক্সিট পোল সামনে এসেছে তার সবকটিতেই বিজেপি শিবসেনা জোটকে জয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিজেপি-শিবসেনা শিন্ধে জোট পেতে পারে ১৪১ আসন এবং উদ্ধব ঠাকরে জোট ৬৩ আসন। জেভিসির ক্ষেত্রে এই হিসেবে যথাক্রমে ১৩৮ ও ৫৯। ডিভি রিসার্চ ১০৭-১২২ এবং ৬৮-৮৩। সাকাল পোলস ১১৯ ও ৭৫। জনমত পোলস ১৩৮ ও ৬২ এবং জেডিএস ১২৭-১৫৪ ও ৪৪ থেকে ৬৪।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন