BJP WB: শুভেন্দু ঘনিষ্ঠরা কমিটি থেকে বাদ কেন? দ্বন্দ্ব কি শমীকের সঙ্গে? প্রশ্ন বিজেপির অন্দরেই

People's Reporter: রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি এখন এমনই যে, দলের এই সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষুব্ধ হলেও শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য
শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যগ্রাফিক্স আকাশ
Published on

তৃণমূলের পর বিজেপিতেও শুরু আদি ও নব্য দ্বন্দ্ব। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে যেভাবে দিলীপ ঘোষকে সামনে আনা হয়েছে এবং বিভিন্ন কমিটি থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠদের ছেঁটে ফেলা হচ্ছে তাতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কথাই সামনে উঠে আসছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি এখন এমনই যে, দলের এই সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষুব্ধ হলেও শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঠিক কী কারণে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলাতেই সাংগঠনিক ইনচার্জ পদে তাঁর ঘনিষ্ঠদের বদলে অন্যদের বসানো হয়েছে। যেমন তমলুকের দায়িত্ব পেয়েছেন অনুপম মল্লিক অথবা কাঁথির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গৌরীশঙ্কর অধিকারীকে। জানা যাচ্ছে, নতুন কমিটিতে যাদের নিয়ে আসার কথা উঠেছিল, তাঁদের সবার ক্ষেত্রে আরএসএস-এর অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন কমিটিতে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের অনেকেই জায়গা পাননি। যে বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা যাতে না হয় তাই শমীক ভট্টাচার্য আগেভাগেই জানিয়েছেন, তাঁরও বহু ঘনিষ্ঠই এই তালিকায় জায়গা পাননি।

এর আগে দলের রাজ্য কমিটি থেকে ছাঁটা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠদের। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দিল্লিতে গিয়ে রাজ্য কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা পেশ করেছিলেন। সেই তালিকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে অথবা তাতে কাটছাঁট করে নতুন রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তালিকায় যাদের যাদের নাম আছে তাঁরা অধিকাংশই শমীক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। এর পরেই বঙ্গ বিজেপির ৪৩ সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের যে নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতেও শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ জায়গা পাননি। উল্টে সেই তালিকায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে আদি বিজেপিদের।

বিজেপির ৪৩ সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের নাম
বিজেপির ৪৩ সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের নামছবি বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত
বিজেপির ৪৩ সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের নাম
বিজেপির ৪৩ সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের নামছবি বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে যেহেতু বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে, তাই কোনো কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে যারা বাদ পড়েছেন তাঁদের প্রার্থী করা হবে বলেই কোনও কমিটিতে রাখা হয়নি। যদিও এই অনুমানের বাস্তব ভিত্তি কতটা তা নিয়ে সংশয় আছে। ফলে কৌস্তুভ বাগচি, সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পান্ডা বা তরুণজ্যোতি তিওয়ারীরা যে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেনই এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

বিজেপির সূত্র অনুসারে, দলের পুরোনোদের অনেকেই দাবি জানিয়েছিলেন নতুনদের যেন সেভাবে কমিটিতে না নেওয়া হয়। সেই আবেদনই মেনে নিয়ে নব্যদের তুলনায় আদিদের নতুন কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পান্ডারা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেছেন এবং কৌস্তুভ বাগচী বিজেপিতে গেছেন কংগ্রেস থেকে। এভাবে তাঁদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দলবদলুদের বিশেষ কোনও বার্তা দেওয়া হল বলেও মনে করছে কোনো কোনো মহল।

৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের যে নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে জায়গা পেয়েছেন আদি বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর ভট্টাচার্য, তনুজা চক্রবর্তী, সন্দীপ নন্দী, নিশীথ প্রামাণিক, মনোজ টিগগার, দেবশ্রী চৌধুরীর মত নেতৃত্বরা। এছাড়াও দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস রায়, শীলভদ্র দত্ত, সঞ্জয় সিং-রা।

শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য
Suvendu Adhikari: ২০২৬-এ বিজেপি ক্ষমতায় এলে যোগ্যদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাব - শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য
এরকম RSS মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ে ডাইরেক্ট BJP-র কেউ মুখ্যমন্ত্রী হলে ওয়েলকাম জানাব - হুমায়ুন কবীর

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in