

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করেছে। যার ফলে চাকরিহারা হয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার (২৫,৭৫২) জন। এরপর থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এক বছর সময় পেয়েও যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা গেল না কেন! এই আবহে এবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিলেন, ২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে যোগ্য শিক্ষকদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবেন।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ই বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াতেই কারচুপি হয়েছে। ২৫ হাজার ৭৫২ জনের ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
এদিন বিকেলে এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে যোগ্য শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন বর্তমান বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “প্রায় ১৯ হাজার যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে আছি আমরা। কথা দিচ্ছি, যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করার যে কাজ এসএসসি এবং রাজ্য সরকার করেনি, মমতা ব্যানার্জি চোরদের বাঁচানোর জন্য যা করল না, আমরা কথা দিচ্ছি, মানুষের আশীর্বাদে রাজ্যে ক্ষমতা পেলে ভবিষ্যতে আমরা সেই কাজ করব”।
শুভেন্দুর বক্তব্য, “যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে যে বঞ্চনা হল তা নিয়ে চিন্তিত আমরা। যাঁরা করালেন, চাইলে যোগ্যদের বাঁচাতে পারতেন। রাজ্য সরকার অযোগ্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের বলি দেওয়া হয়েছে।''
বিরোধী দলনেতার আশ্বাস, “২০২৬ সালে বিজেপি আসলে আমরা যোগ্যদের তালিকা বের করে তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিশন পিটিশন দায়ের করব কথা দিচ্ছি। সিবিআই বলেছে, মার্ক করে দিয়েছে কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য। অযোগ্যের সংখ্যাটা ৬-৭ হাজারে মধ্যে রয়েছে। বাকি কিন্তু সব যোগ্য। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রাথমিক রায়ে, সিবিআই-এর রিপোর্টেও বলা হয়েছে। রাজ্য এবং এসএসসি আলাদা করল না বলেই সবার উপর কোপ পড়ল। কারণ কাগজ ও তথ্য ছাড়া আইন হয় না। তাই বিচারপতি বাধ্য হয়েছেন”।
শুভেন্দু আরও বলেন, “ওএমআর, মার্কশিট হ্যাম্পার করা হয়েছিল। কিন্তু সিবিআই তৎপরতা দেখিয়ে তা পুনরুদ্ধার করেছে। পুড়িয়ে দেওয়া ওএমআর নতুন করে বের করেছে ওঁরা। অনেক সমালোচনার পরও কাজ করেছে। আর আজকের দিনে সবচেয়ে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাব অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। যিনি চাকরিজীবন ছেড়ে মোদিজির সৈনিক হিসেবে তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। তৃণমূল বলেছিল, 'ঠান্ডা ঘরে বসে অনেক কিছু হয়, আসুন ময়দানে দেখা হবে'। তিনি ময়দান বেছে নিয়েছিলেন।''
যদিও যোগ্য-অযোগ্য বাছাই প্রসঙ্গে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এক সংবাদ মাধ্যমে বলেন, "অযোগ্য হিসেবে যে ৫ হাজার ৪০০-র মতো চাকরিপ্রার্থীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার বাইরেও অনেক অযোগ্য থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং বোর্ড, তিন পক্ষ তিন রকমের তথ্য দিয়েছে। কেউ বলে, ৫৪৮৫, কেউ ৫১৮৯, কেউ ৪৩২৭। সংখ্যায় ফারাক থেকে যাচ্ছে। তাই যোগ্য ও অযোগ্যের মধ্যে পৃথকীকরণ সম্ভব হয়নি।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন