

পথ দেখিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তারপর সেই পথে হাঁটে ফ্রান্স। গত মাসের ২৯ তারিখ ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ জানিয়েছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়স ভিত্তিক ব্যবহার সীমা সংক্রান্ত নীতিগুলির বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে এই ব্যবহার অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এবার সেই বিষয়েই আরও জোর দিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করলো ভারতও। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০২১-এ সংযোজন এনে ভারতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবেনা। তার বদলে বিশেষ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ডিপফেকের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। শক্ত হাতে তা মোকাবিলার প্রয়োজন। বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ জারি করার জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের শিশুদের, আমাদের সমাজকে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
বর্তমানে, ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করার জন্য ন্যূনতম বয়সের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও, ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা (DPDP) আইন অনুসারে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য আদানপ্রদানের আগে প্ল্যাটফর্মগুলিকে অভিভাবকদের সম্মতি নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ায় তরুণ প্রজন্মকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখার জন্য বিল আনা হয়। সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, 'এই পদক্ষেপ ১৬ বছরের নীচের নাবালক-নাবালিকাদের সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। আমরা আগে থেকেই বলতে চাই এটি সমস্ত সমস্যার সমাধান করবে না। তবে এটি একটি সামাজিক বার্তা পাঠাবে যা সমাজের উন্নতির ক্ষেত্রে উপযুক্ত বলে মনে করি'।
অস্ট্রেলিয়ার আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হল - নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য অভিভাবক বা শিশুরা কোনও শাস্তি পাবে না। শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ সংস্থাকে। বারবার একই ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপ সংস্থাকে ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় যে দশটি প্ল্যাটফর্মকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে - ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস, টিকটক, টুইচ, এক্স, ইউটিউব, কিক এবং রেডডিট। প্রয়োজন অনুসারে তালিকাটি আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান।
অস্ট্রেলিয়ায় এই আইন চালুর পরেই গত জানুয়ারি মাসে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন অন্ধ্রপ্রদেশের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব ১৬ আইনটি নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমরা মনে করি আমাদেরও এরকমের একটি কঠোর আইন তৈরি করা দরকার।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন