

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শীর্ষ সংস্থা ওরাকেল-এ (Oracle) ছাঁটাই হতে পারেন ২০ থেকে ৩০ হাজার কর্মী। জানা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা সেন্টার (AI Data Centre) সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান করতে না পারার কারণে কর্মী ছাঁটাই করে সেই অর্থের সংস্থান করতে চাইছে বিশ্বের এই খ্যাতনামা প্রযুক্তি সংস্থা। লে অফস ডট এফওয়াইআই-এর তথ্য জানাচ্ছে জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে অন্য এক সংস্থা আমাজন ছাঁটাই করেছে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী।
ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক টিডি কাওয়েনের (T D Cowen) বিবৃতি উদ্ধৃত করে সিআইও (CIO) জানিয়েছে, মার্কিন ব্যাঙ্কগুলি ওরাকেলের প্রকল্প থেকে সরে আসার কারণে বড়ো সংখ্যায় এই ছাঁটাই হতে পারে। ২০২৫ সালেও বড়ো সংখ্যায় কর্মী ছাঁটাই করেছে ওরাকেল।
ওরাকেলের গতবারের ছাঁটাই প্রসঙ্গে বরখাস্ত এক কর্মী জানিয়েছিলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেল মাত্র ২০ মিনিটে। একটি জুম কলে আমন্ত্রণ, অনলাইনে ম্যানেজার আর এইচআর জানালেন যে বিষয়টা আমার কর্মদক্ষতার জন্য নয়, পুরোপুরি ব্যবসায়িক কারণে ছাঁটাই করা হচ্ছে। আমার অ্যাক্সেস সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেওয়া হলো।”
সিআইও-র ৩০ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করা হলে ওরাকেলের খরচ বাঁচবে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। বিনিয়োগকারীরা ওরাকলের নতুন এআই ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সমস্যা আরও বেড়েছে এই সংস্থার।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূলে ওরাকেলের ব্যয়বহুল ডেটা সেন্টার (Data Centre) নির্মাণের প্রতিশ্রুতি। নিজেদের বড়ো ক্লায়েন্টদের জন্য এই ডেটা সেন্টার তৈরি করার কথা জানিয়েছিল ওরাকেল। যা তৈরি করতে ১৫৬ বিলিয়ন ইউএস ডলারের মূলধন প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক ওরাকেলকে এই প্রকল্পে ঋণদান থেকে সরে এসেছে। ফলে ওরাকেলের কাছে প্রকল্পের খরচ জোগাড় করাই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূলধনের অভাবে সাম্প্রতিক সময়ে ওরাকেলের সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা সেন্টার লিজ নেবার বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল তাও বর্তমানে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। কারণ অর্থ ছাড়া বেসরকারি ডেটা সেন্টার সংস্থাগুলির পক্ষে ওরাকেলের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়।
সিআইও-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওরাকেল মাত্র দু’মাসের মধ্যে ৬৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার তুলেছে। যার মধ্যে নিউ মেক্সিকোর জন্য ২০ বিলিয়ন এবং টেক্সাস ও উইসকনসিনের জন্য ৩৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার। যদিও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য এই মুহূর্তে ওরাকেলের যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার তুলনায় এই অর্থ কিছুই নয়।
সিআইও-তে গত ৩০ জানুয়ারির প্রতিবেদন প্রসঙ্গে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ওরাকেল। তবে এই ছাঁটাই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ওরাকেলের অতীত ছাঁটাইয়ের রেকর্ড ভেঙে দেবে।
আর্থিক চাপ কমাতে এবং খরচ বাঁচাতে অন্য বিকল্পের কথাও ভাবছে ওরাকেল। জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালে অধিগ্রহণ করা স্বাস্থ্যসেবা সফটওয়ার ইউনিটের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারে ওরাকেল। এছাড়াও বর্তমানে ওরাকেল পরীক্ষামূলকভাবে ‘ব্রিং ইয়োর ওন চিপ’ (Bring your own chip – BYOC) প্রকল্প শুরু করেছে। যেখানে নতুন ক্লাউড গ্রাহকদের তাদের নিজস্ব হার্ডওয়ার আনার কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে নতুন ক্লায়েন্টদের কাজ শুরুর আগেই ৪০ শতাংশ অগ্রিমের কথাও জানানো হচ্ছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন