নদীয়ার কালীগঞ্জের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল নদীয়া জেলা সিপিআইএম। কালীগঞ্জের দলীয় অফিস ভাঙচুর করার দায়ে বৃহস্পতিবার বহিষ্কার করা হল ৭ সিপিআইএম কর্মীকে। দলের জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখ বিবৃতি দিয়ে এই সাত জনের নাম প্রকাশ করেছেন। গত ১৬ মার্চ রাজ্য বামফ্রন্টের প্রথম প্রার্থী তালিকায় কালীগঞ্জ কেন্দ্রে তামান্নার মাকে প্রার্থী করার পরে দলীয় অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন কিছু সিপিআইএম কর্মী সমর্থক।
বৃহস্পতিবাঁর সিপিআইএম নদীয়া জেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দলীয় অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় সদস্য অজয় সরকার, সেন্টু শেখ, মোদাসসের মীর, জহিরুদ্দিন আহমেদ, হানিফ মহম্মদ, মকলেসুর রহমান এবং সাইদুল শেখকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের ১৯/১৩ ধারা অনুযায়ী তাদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিপিআইএম এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা দিল।
গত সোমবার ১৬ মার্চ প্রথম দফায় ১৯২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই তালিকায় কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের নাম সিপিআইএম প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়। এরপরেই ওইদিন সন্ধ্যেবেলা স্থানীয় পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালান কিছু পার্টি কর্মী ও সমর্থক। তাদের বক্তব্য ছিল, এই প্রার্থী তাদের পছন্দ নয়। এই প্রার্থী তারা মানবেন না। এই কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছিল, এই ঘটনার পেছনে স্থানীয় তৃণমূলের ইন্ধন ছিল। যদিও সিপিআইএম নদীয়া জেলা কমিটি প্রথম থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের ঘোষিত প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। এই কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই। এরপরেই শুক্রবার সকালে সিপিআইএম থেকে দলের ৭ সদস্যকে বহিষ্কার করা হল।
তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছিলেন, ‘‘মানুষ চেয়েছে বলেই আমি প্রার্থী হয়েছি। দলের কর্মীরা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখানে কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভ নেই। বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় কিছু অশান্তি হলেও হতে পারে।”
গত বছর জুন মাসে নদীয়ার কালীগঞ্জ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। ওই নির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী কাবিল উদ্দিন শেখ তৃতীয় স্থানে ছিলেন। যদিও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে এলাকার পরিচিত বাম কর্মী সাবিনা ইয়াসমিনদের বাড়ি বোমা ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। যে বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তামান্নার দেহ।
প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছিলেন, লাল ঝান্ডা আমাকে তামান্নার বিচারের দাবিতে লড়বার সুযোগ দিয়েছে। শুধু আমার মেয়ে তামান্নার জন্য নয়, তামান্নার মত হাজার হাজার মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই লড়াই।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন