

নদীয়ার কালীগঞ্জে গতবছরের জুন মাসে উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমায় মৃত্যু হয় নাবালিকা তামান্নার। যে ঘটনায় ২৪ জন তৃণমূল নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল তামান্নার পরিবার। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল জেলা সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকেও। রবিবার ১৬ মার্চ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম দফায় ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় সেই তামান্নার মা’কে মনোনয়ন দিল রাজ্য সিপিআইএম।
গতকাল প্রার্থী হিসেবে তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের নাম ঘোষিত হবার পর তিনি বলেন, লাল ঝান্ডা আমাকে তামান্নার বিচারের দাবিতে লড়বার সুযোগ দিয়েছে। শুধু আমার মেয়ে তামান্নার জন্য নয়, তামান্নার মত হাজার হাজার মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই লড়াই।
গত বছর জুন মাসে নদীয়ার কালীগঞ্জ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। ওই নির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী কাবিল উদ্দিন শেখ তৃতীয় স্থানে ছিলেন। যদিও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে এলাকার পরিচিত বাম কর্মী সাবিনা ইয়াসমিনদের বাড়ি বোমা ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। যে বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তামান্নার দেহ।
এই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানায় তামান্নার পরিবার। যদিও তামান্নার মা গত সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে ধর্না দেবার সময় সংবাদমাধ্যমে জানান, একাধিকবার তাঁরা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন, প্রমাণ দিয়েছেন, তবু পুলিশ কোনও বিশেষ পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টে অভিযুক্তদেরকেই সাক্ষী করছে পুলিশ। দু'মাসের বেশি সময় কেটে গেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ে আজ নেই। আমরা শুধু চাই, দোষীরা যেন শাস্তি পায়। কিন্তু ৮১ দিন পেরিয়েও চার্জশিট দেয়নি পুলিশ। এখন এসপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করতেও দিচ্ছে না। দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে আমাদের মুখের ওপর। তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে যারা মেরেছে, যারা খুনি, ওদেরকেই পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে সাক্ষী দেওয়ার জন্য, ওটা রাজনীতি হচ্ছে না? পুলিশ কী করছে? পুলিশ আমাকে এক বলছে, ওদেরকে এক বলছে”।
তামান্নার মৃত্যুর পর স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল কালীগঞ্জে জয় নিশ্চিত হয়ে যাবার পর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই বিজয় মিছিল বের করে স্থানীয় তৃণমূল। আর সেই বিজয়মিছিল থেকেই বোমা ছোঁড়া হয় এক সিপিআইএম সমর্থকের বাড়ি লক্ষ্য করে। যে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় বছর দশেকের তামান্না খাতুনের। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পলাশীর মেলেন্দি এলাকায়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন