

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হওয়ার সাথে সাথে দিকে দিকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একদিকে যখন টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন একাধিক বিদায়ী বিধায়ক এবং তাঁদের অনুগামীরা, তখন বিক্ষোভের অন্যচিত্র দেখা গেল বর্ধমানের খণ্ডঘোষে। সেখানে বিদায়ী বিধায়ককেই আবার প্রার্থী করায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা।
খন্ডঘোষ বিধানসভা আসনে বর্তমান বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগকে পুনরায় প্রার্থী করেছে শাসকদল। এরপরই বিদ্রোহ শুরু করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন) এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় এই বিদ্রহের নেতৃত্বে রয়েছেন। এমনকি বুধবার খন্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে নবীনচন্দ্র বাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
বিদ্রোহী নেতাদের সাফ কথা, "নবীনচন্দ্র বাগকে কোনোভাবেই প্রার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।" তাঁদের অভিযোগ, যারা অন্য দল থেকে এসে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, দল তাঁদেরই গুরুত্ব দিচ্ছে, অথচ পুরনো দুর্দিনের কর্মীদের অবহেলা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে দলীয় পদ থেকে ইস্তফার হুমকি দিয়েছেন অপার্থিব ইসলাম এবং বিশ্বনাথ রায়। তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন আরও একাধিক অঞ্চল সভাপতি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিপিআইএমের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন নবীন চন্দ্র বাগ। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তৃণমূলের টিকিটে ভোটে দাঁড়ান এবং জয়ী হন। এরপর ২০২১ সালেও তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবারও তাঁকে প্রার্থী করেছেন মমতা ব্যানার্জি-অভিষেক ব্যানার্জিরা। এখন বিদ্রোহী নেতাদের ক্ষোভ প্রশমনে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয় সেই দিকেই নজর রয়েছে সকলের।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ২৯১ সিটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। প্রার্থী তালিকায় ১৪১জন নতুন মুখ। ১৩৫জন বর্তমান বিধায়ককে ফের টিকিট দেওয়া হয়েছে। গতবার জেতা ১৫ জন বিধায়কের আসন বদল করা হয়েছে। টিকিট দেওয়া হয়নি ৭৪ বিধায়ককে। এই নিয়ে সর্বত্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলকে এর ফল ভোগ করতে হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন একাধিক 'বঞ্চিত' বিধায়ক।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন