

রেশন দুর্নীতি, নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ গেছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট। যদিও এর পাশাপাশি এবারের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এরকম বেশ কয়েকজন আছেন যাদের গায়ে দুর্নীতির অভিযোগ লাগলেও তাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজন দুর্নীতির অভিযোগে জেলও খেটেছেন।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবশ্যই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিদায়ী বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। হাবড়া কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হন।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর ২৪ ঘন্টা তল্লাশির পর নিজের বাসভবন থেকে মাঝরাতে গ্রেফতার করা হয় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। সেই সময় তিনি ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী। সংবিধানে ১৬৬(৩) অনুচ্ছেদ মেনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁকে রাজ্যের বন দফতর এবং শিল্পোদ্যোগ ও শিল্প পুনর্গঠনের দফতরের দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ দেন।
এই ঘটনার ১৪ মাস পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। ইডির বিশেষ আদালত ২৫ হাজার টাকার জোড়া বন্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের পর তাঁকে বনমন্ত্রী করা হয়েছিল। গ্রেফতারীর পর প্রথমে অসুস্থ হয়ে পড়েন মন্ত্রী। সেই সময় এসএসকেএম ভর্তিও হয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে জেলে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি।
আনিসুর রহমান
তৃণমূলের এবারের প্রার্থী তালিকায় আছেন দেগঙ্গার তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান। তাঁর নামও জড়িয়েছিল রেশন দুর্নীতি মামলায়। সেই অভিযোগেই তাঁকে কারাবাস করতে হয়। তবে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে তৃণমূল। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছিলেন তৃণমূলের রহিমা মন্ডল। তিনি আইএসএফ প্রার্থী করিম আলিকে ৩২,৫৩৭ ভোটে পরাজিত করেন।
২০২৪ সালের ২ আগস্ট রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন আনিসুর রহমান এবং তাঁর ভাই আলিফ নূর ওরফে মুকুল রহমান। সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দেবার পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রেশন দুর্নীতি কান্ডে অভিযুক্ত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
তবে জেল থেকে ঘুরে আসা এই দু’জনকে প্রার্থী করা হলেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বেহালা পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পলাশীপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক মাণিক ভট্টাচার্য, মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিদায়ী বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন