Rejinagar: নন্দীগ্রামের পর প্রত্যাহার রেজিনগরেও; লড়াইয়ের ময়দান ছাড়লেন মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী

People's Reporter: মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন, কর্মীদের নামানো যাচ্ছে না। অল্প সময়ে নতুন প্রতীক চেনানোও অসুবিধের। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করছেন।
মনোনয়ন জমা দেবার দিন রবিউল আলম চৌধুরী
মনোনয়ন জমা দেবার দিন রবিউল আলম চৌধুরীছবি, রবিউল আলম চৌধুরীর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত
Published on

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এ ঘটনা অবশ্যই বিরলতম। পরপর দু’দিনে রাজ্যের দুই কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন মমতাপন্থী তৃণমূলের দুই প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান এবং রবিউল আলম চৌধুরী। যার ফলে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কোনও প্রার্থী থাকছে না মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের। আজ শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন রেজিনগরের মমতা পন্থী প্রার্থী।

ঠিক কী কারণে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন রেজিনগরের তিনবারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে পারেন তা নিয়ে গতকাল থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। সূত্র অনুসারে, নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, কর্মীদের নামানো যাচ্ছে না এবং এত অল্প সময়ে নতুন প্রতীক চেনানোও খুবই অসুবিধের। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিতে চান।

রাজ্যের শেষ বিধানসভা নির্বাচনে বেলডাঙা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৩,২০৮ ভোটে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন রবিউল আলম চৌধুরী। তার আগে ২০১৩, ২০১৬ এবং ২০২১-এ তিনি রেজিনগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের মনোনয়নে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

রবিউল আলম চৌধুরীর মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেরই বক্তব্য, তিনবারের বিধায়ক রবিউল রেজিনগর চেনেন হাতের তালুর মত। এলাকার মানুষের কাছেও পরিচিত মুখ তিনি। তাই হঠাৎ করে অল্প সময়ে প্রতীক চেনাতে পারবেন না বলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো কতটা যুক্তিসঙ্গত? তাহলে কি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে? হার নিশ্চিত জেনেই কি দুই আসন থেকেই কৌশলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হল?

এর আগে গতকাল শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধানও হলদিয়ায় গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপরেই সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তাঁর মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করবে কংগ্রেসকে। যদিও শনিবার সকালে রেজিনগরেও তাঁর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবার পর এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিক থেকে এই কেন্দ্রেও কংগ্রেসকে সমর্থন করা হবে কিনা সেই বিষয়ে কোনও নির্দেশ আসেনি।

গত ৪ঠা মে রাজ্যে পালাবদলের পর এখনও পর্যন্ত একটি মাত্র আসনে নির্বাচন হয়েছে। সেটি ফলতা। বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই আসনে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে দেয় কমিশন। পরে ২১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে যায় তৃণমূল কংগ্রেস।

উল্লেখযোগ্যভাবে সেবারও ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। যদিও তখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএম-এ তাঁর নাম ছিল এবং তিনি ভোট পান ৭,৭৮৩টি। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে পরাজিত করেন সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কূর্মীকে।

মনোনয়ন জমা দেবার দিন রবিউল আলম চৌধুরী
TMC: ২১ জুলাইয়ের বার্তা: তিন টুকরো তৃণমূলে আপাতত এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মনোনয়ন জমা দেবার দিন রবিউল আলম চৌধুরী
Nandigram: নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেপ্তার; রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কংগ্রেসের

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in