

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল তা সাড়ে চার মাস পরেও অব্যাহত। সেই অর্থে রাজ্যের অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম কোনও নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। যে নির্বাচনে বহু চর্চিত নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেই প্রার্থী শূন্য হয়ে গেল তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী। নির্বাচন কমিশনের নতুন দেওয়া নাম অনুসারে যার নাম এখন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়।
আগামী মাসের ৬ তারিখে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রেজিনগর কেন্দ্র হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেওয়ায় এবং শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় এই দুই কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল গোষ্ঠীর প্রার্থী করা হয়েছিল সঞ্চিতা দে প্রধানকে। নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে চাকরি হারানো সঞ্চিতা দে প্রধানকে প্রার্থী করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিল রাজনৈতিক মহল। এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর কোনও ‘ডামি’ প্রার্থী ছিল না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার শুক্রবার হলদিয়া মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন সঞ্চিতা দে প্রধান। যেহেতু মনোনয়ন জমা দেবার শেষ দিন চলে গেছে তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নতুন করে এই কেন্দ্রে আর মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রার্থী থাকছে না। এর আগেই হঠাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের প্রার্থী কেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কলকাতায় এসে সাক্ষাৎ করলেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
এর আগে গতকালই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক তৃণমূলের কোনও গোষ্ঠীই আর ব্যবহার করতে পারবে না। গত ৪ঠা মে ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবার পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়।
তৃণমূল সাংসদদের বড়ো অংশ যোগ দেন এনসিপিআই নামক এক অনামী দলে। দলের তিন রাজ্যসভা সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে সরাসরি বিজেপি যোগ দিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। আর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মনোনয়নে জয়ী প্রায় ৬০ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেন এবং নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবী করেন। বাকি বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরেই থেকে যান। যদিও তৃণমূলের আসল মালিক কে তা নিয়ে জল গড়ায় আদালত, নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত।
শুক্রবার তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান নন্দীগ্রামে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করবে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে।
নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানী রথ, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান, বামফ্রন্টের সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এহেতেশমূল হক এবং আইএসএফ প্রার্থী মহম্মদ সাবে মীরাজ আলি খান। এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ৬ অক্টোবর এবং ফল প্রকাশ ৯ অক্টোবর। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে নিকটবর্তী তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯৬৬৫ ভোটে পরাজিত করেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
কে এই সঞ্চিতা প্রধান?
নন্দীগ্রামের বয়াল-২ অঞ্চলের বাসিন্দা সঞ্চিতা দে প্রধান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন প্রধানও। ২০১৪ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ২৬৯ জনকে বরখাস্ত করার আদেশের পর তিনি শিক্ষকতার চাকরি হারান।
২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে কর্মরত ছিলেন। পরে তৃণমূলের মনোনয়নে জয়ী হয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা হন। যদিও পরে তৃণমূল তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পরাজিত হন। পরে কুনাল ঘোষের হাত ধরে তিনি ফের তৃণমূলে সক্রিয় হন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন