TMC: 'আমাদের ভোট ফেরত দিন' - শিবির বদল করা বিধায়কের কাছে অভিনব দাবি জানালেন ক্ষুব্ধ ভোটার

People's Reporter: সম্ভবত এই প্রথম কোনও ভোটার দলবদলের প্রতিবাদ জানালেন। পূর্ব বর্ধমানের ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, তাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলবদল বা শিবির বদল মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
ভোট ফেরতের দাবি জানানো সন্দীপ ভট্টাচার্য
ভোট ফেরতের দাবি জানানো সন্দীপ ভট্টাচার্য ফাইল ছবি, সন্দীপ ভট্টাচার্যর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত
Published on

এরকম কোনও নজির নেই একথা সত্যি। আইনেও এরকম কিছু বিধি নেই। যদিও সম্ভবত এই প্রথম কোনও ভোটার এভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাদের দলবদলের প্রতিবাদ জানালেন। পূর্ব বর্ধমানের এই ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, তাদের ভোট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দল বদল অথবা শিবির বদলকে মানুষ মোটেই ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। একজন ভোটার সাহস করে যে প্রতিবাদ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, আগামী দিনে আরও অনেক ভোটার এই একই ধরণের দাবি জানাবেন এই ঘটনাতেই সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রে এবার তৃণমূলের প্রতীকে নিবাচিত হয়েছেন নিশীথ কুমার মালিক। যদিও নির্বাচনে জয়ের পরে তিনি দল বদল না করেও শিবির বদল করেছেন। আপাতত তিন ভাগে তৃণমূলের ঋতব্রত গোষ্ঠীতে তিনি নাম লিখিয়েছেন। আর ঠিক এই জায়গাতেই আপত্তি জানিয়েছেন তাঁর কেন্দ্রের একজন ভোটার। সরাসরি লেখা এক চিঠিতে তিনি বিধায়কের কাছে ভোট ফেরত চেয়েছেন।

নিজের ফেসবুক পোষ্টে তিনি লিখেছেন, "মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী মহাশয়ার চোখে আপাতত গদ্দার আমাদের মতো সাধারণ একজন দলের জন্মলগ্নের কর্মীদের কাছে বেইমান 266 বর্ধমান উত্তর বিধানসভা বর্তমান MLA নিশীথ কুমার মালিক আমাদের দেয়া প্রদেয় ভোট ফেরত দিন।"

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই চিঠিতে সন্দীপ ভট্টাচার্য নামক জনৈক ভোটার জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী নিশীথ কুমার মালিককে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর ওই বিধায়ক মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আর এই জায়গাতেই ক্ষোভ ওই ভোটারের। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই ভোট দিয়েছিলেন। তাই তাঁর বিধায়ক শিবির বদল করায় তিনি সেই ভোট ফেরত চান।

সন্দীপ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এসআইআর-এর পরে ভোটার হয়েছিল। আমার মূল্যবান ভোট এটি। আমি গোড়া থেকে তৃণমূল করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই ভোট দিয়েছি। আমাদের ভোট নিয়ে যিনি বিধায়ক হলেন তিনি পিঠ বাঁচাতে অন্য শিবিরে চলে গেলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চিঠি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরেই এই ঘটনায় মুখ খুলতে বাধ্য হন বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক। তিনি বলেন, উনি কে আমি চিনি না। কাকে আবেদন করেছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে বিধায়ক যাই দাবি করুন না কেন এভাবে খোলা চিঠিতে সন্দীপ ভট্টাচার্য বিধায়কের নৈতিকতা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।

এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ৮০ আসনে জয়ী হলেও ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবার পরে তৃণমূল কার্যত তিন টুকরো হয়ে যায়। রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল ভেঙে ক্ষমতা দখল করে ঋতব্রত গোষ্ঠী। সাংসদদের একটি দল যোগ দেয় এনসিপিআই নামক নাম না জানা একটি দলে। আর বাকী সাংসদ ও বিধায়করা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে।

তৃণমূলের দল ভাঙ্গাভাঙ্গির পর দলের ঋতব্রত গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়া বিধায়কদের নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাদের নৈতিকতা নিয়েও। যদিও অতীতে তৃণমূলের আমলেও ব্যাপক হারে দল ভাঙ্গাভাঙ্গি হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বহু বিধায়ক ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দল ভেঙেছে কংগ্রেসের, বামেদের এবং বিজেপির।

একইভাবে অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপির উদ্যোগে বহু রাজনৈতিক দল ভেঙে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে। কুখ্যাত অপারেশান লোটাস শব্দবন্ধই জনমানসে পরিচিত হয়ে উঠেছে। যদিও এই দল ভাঙ্গাভাঙ্গিতে ক্ষুব্ধ হলেও এর আগে কখনও কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানায়নি। সেদিন থেকে দেখতে গেলে সন্দীপ ভট্টাচার্যর এই প্রতিবাদ ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে সম্ভবত প্রথম এই ধরণের প্রতিবাদ। আগামী দিনে যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভোট ফেরতের দাবি জানানো সন্দীপ ভট্টাচার্য
TMC: ২১ জুলাইয়ের বার্তা: তিন টুকরো তৃণমূলে আপাতত এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভোট ফেরতের দাবি জানানো সন্দীপ ভট্টাচার্য
TMC: আরও 'একলা' মমতা, তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোজা বিধানসভায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in