

ভোটের দু'দিন আগে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে রহস্যমৃত্যু হল এক সিপিআইএম কর্মীর। নিহতের নাম নূর আজম, বয়স মাত্র ২৫ বছর। মৃতের পরিবারের তরফ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখান সিপিআইএম কর্মীরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুর নাগাদ নুর আজমকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যান। এরপর সন্ধ্যায় প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। ফিরেই উন্মাদের মতো আচরণ করতে শুরু করেন। 'বাঁচাও বাঁচাও, আমায় মেরে দেবে' বলে চিৎকার শুরু করেন। বাড়ির জিনিস ভাঙচুর করেন।
তড়িঘড়ি ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুর আজমের। পরিবারের তরফ থেকে সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। সিপিআইএমের হয়ে প্রচার করায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। নুর আলম নামে স্থানীয় এক তৃণমূলকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নুর আজমের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্থানীয় সিপিআইএম কর্মীরা। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এক সিপিআইএম কর্মী বলেন, "এটা রাজনৈতিক খুন। ও দু'দিন আগে বামফ্রন্টের ঝাণ্ডা ধরেছিল বলে ওকে থ্রেট (হুমকি) দেওয়া হয়েছিল। ও আমায় বলেছে।"
হাসপাতালে যান ইসলামপুরের সিপিআইএম প্রার্থী সামি খানও। তিনি বলেন, “আমার নমিনেশনে গিয়েছিল নুর আজম। তারপর হঠাৎ অফ হয়ে যায়। আমি মেসেজ করেছিলাম কী হয়েছে জানতে চেয়ে। তারপর বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি যে ওর উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ আজ জানতে পারি যে..., নুর আলমের সঙ্গে ওর কী ঝামেলা ছিল, নুর আলম ওকে কেন নিয়ে গেল... আমরা বলব পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।“
ইসলামপুরের তৃণমূলের নেতা জাভেদ আখতার এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটা নিন্দাজনক কাজ। ব্যক্তিগত সমস্যা হলে বসে সমাধান করা যেত। যে এ কাজ করেছে তা সমর্থনযোগ্য নয়। এমন লোক কোনও দলে থাকে না।“
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক হিংসা আটকাতে পশ্চিমবঙ্গে এবার ২ দফায় বিধানসভা নির্বাচন করছে ইলেকশন কমিশন। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। ইসলামপুরেও ওই দিন ভোট।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন