

সংবিধানের ১৪২ তম অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে বিবেচনাধীন বাতিল ভোটারদের নিয়ে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২১ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দু’দিন আগে ট্রাইব্যুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই সময় দেওয়া হয়েছে। এই দু'দিনই নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জয়কে নিজের জয় বলে দাবি করেন তিনি। কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সকলকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই আমি সুখবরটা পেলাম। প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, সকলে ধৈর্য ধরুন। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। আজ নয়তো কাল ফল পাবেনই। আমি খুব খুশি। বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম। তাই আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।“
যদিও এই মামলাটি করেছিলেন মোস্তারি বানু নামের এক গৃহবধূ, যাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদে। তিনি সক্রিয় সিপিআইএম কর্মী। তাঁর স্বামী কামাল হোসেন সিপিআইএম-এর পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের নেতা। শুনানি চলাকালীন তিনি একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থেকেছেন। তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে তাঁর দল সিপিআইএম। তাই মুখ্যমন্ত্রী এই জয়কে তাঁর জয় বলার পরই তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মোস্তারি।
রায়ের কপি হাতে নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় মোস্তারি বানু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এসআইআর-এর জয় ওনার জয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে দেখুন লেখা আছে মোস্তারি বানু বনাম নির্বাচন কমিশন। এখানে মমতা ব্যানার্জির নামের কোনও উল্লেখ নেই। উনি একেবারে মিথ্যে কথা বলছেন। এই জয় মোস্তারি বানুর জয়। এই জয় সিপিআইএম-এর জয়। এই রায় যদি আগে দিত তাহলে সাধারণ মানুষ আরও উপকৃত হতেন।"
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা করার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছিল কমিশন। এবার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল শীর্ষ আদালত। ভোটদানের দু’দিন আগে পর্যন্ত যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির পরে নাম তালিকায় তোলার জন্য ছাড়পত্র দেবে ট্রাইব্যুনাল, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়েছে আদালত।
প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট হবে। এই কেন্দ্রে বাদ যাওয়া যে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন, তাঁদের মধ্যে যাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হবে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফায় ১৪২ কেন্দ্রে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ট্রাইবুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন