

বিবেচনাধীন বাতিল ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কোথায়, এই মামলা তিনিই করেছিলেন, তাই তাঁর থেকে খুশি আর কেউ না।
২১ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দু’দিন আগে ট্রাইব্যুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই সময় দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে অত্যন্ত খুশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের প্রচারের জন্য এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন তিনি। কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সকলকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই আমি সুখবরটা পেলাম। প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, সকলে ধৈর্য ধরুন। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। আজ নয়তো কাল ফল পাবেনই। আমি খুব খুশি। বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম। তাই আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।“
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যেও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের স্লিপ বিলি করতে হবে দলীয় কর্মীদের, বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা করার শেষ দিনেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছিল কমিশন। এবার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল শীর্ষ আদালত। ভোটদানের দু’দিন আগে পর্যন্ত যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির পরে নাম তালিকায় তোলার জন্য ছাড়পত্র দেবে ট্রাইব্যুনাল, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়েছে আদালত।
প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট হবে। এই কেন্দ্রে বাদ যাওয়া যে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন, তাঁদের মধ্যে যাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হবে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ট্রাইবুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো শুরু হয়ে গেছে। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ কিংবা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করা যাবে। এছাড়া জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়েও আবেদন করা যাবে। ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন