

তৃণমূলের একদা ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলামকে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দিল আইএসএফ। ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে লড়বেন তিনি। আরাবুলকে প্রার্থী করায় অনেক সিপিআইএম কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
এবারের নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ-এর সাথে আসন সমঝোতা করে লড়ছে বামফ্রন্ট। কোন কোন আসনে লড়বে আইএসএফ, আগেই তা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। এবার তার মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলো তারা। এর মধ্যে তিনটিতে আগেই প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। ফলে সমস্যার মুখে পড়তে পারে বাম-আইএসএফ আসন সমঝোতা। এর উপর রাজ্য-রাজনীতিতে বিতর্কিত মুখ আরাবুলকে প্রার্থী করার বিষয়টিতো রয়েইছে।
প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ভাঙড় থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তৃণমূল এবার শওকত মোল্লাকে ক্যানিং পূর্ব থেকে এনে ভাঙড়ের প্রার্থী করেছে। অর্থাৎ ভাঙড়ের লড়াই শওকত মোল্লা বনাম নওশাদ সিদ্দিকি – অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, শওকত মোল্লার এলাকায় আইএসএফ প্রার্থী করেছে আরাবুল ইসলামকে। যার সাথে বিবাদের কারণেই মূলত আরাবুলকে তৃণমূল ছাড়তে দিতে হয়েছে। তাই নওশাদের এই সিদ্ধান্তও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেওয়া আরও এক নেতা মফিদুল হক সাহাজিকে দেগঙ্গা বিধানসভার প্রার্থী করা হয়েছে। মফিদুল হক সাহাজি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ।
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে আফজল আলি শাহকে, যিনি নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান আলি শাহ-র আত্মীয়। নন্দীগ্রামে টিকিট দেওয়া হয়েছে মৌলানা মহম্মদ শবে মিরাজ খানকে। বীরভূমের মুরারইতে আইএসএফ-এর প্রার্থী হজরত আলি। এই তিনটি কেন্দ্রে আগেই বামেরা প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
যদিও প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় নওশাদ জানান, যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তা বামেদের সহমতের ভিত্তিতেই হয়েছে। তিনি আরও জানান, উত্তর ২৪ পরগনার করেকটি আসন নিয়ে এখনও জট কাটেনি। তাঁর কথায়, ‘‘সাত মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। আর একটা দিন অপেক্ষা করব। আগামী বুধবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করব।’’
আরাবুলের যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক খারাপ লোককেও কাউন্সেলিং করে দলে নেওয়া হয়েছে। কেউ ভুল করে থাকলে সংশোধন করার সুযোগ তাঁকে দেশের সংবিধানই দিয়েছে। যাঁদের দিয়ে খারাপ কাজ করানো হয়েছে, তাদের ভাল করতে হবে। সে জন্য কাউন্সেলিং টিম রয়েছে আইএসএফের। অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা করে তবেই এঁদের দলে নেওয়া হয়েছে।“
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন