

গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং তাঁর স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ। আর গত ১০ বছরের হিসেবে সম্পত্তি বেড়েছে ৬ গুণ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামায় একথা জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
আসন্ন নির্বাচনে জালুকবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শর্মা। ২০০১ সাল থেকে তিনি এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৩৫.১৫ কোটি টাকা; যা ২০২১ সালে ছিল ১৭.২৭ কোটি টাকা এবং ২০১৬ সালে ছিল ৬.৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ১০ বছরে প্রায় ৬গুণ বেড়েছে সম্পত্তির পরিমাণ।
হিন্দুস্থান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২.৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা; হাতে নগদ রয়েছে ২.২৮ লক্ষ টাকা। এছাড়া তাঁর ১৮০ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৫.১০ লক্ষ টাকা। ২০১১ সালে তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১.৭২ কোটি টাকা।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা, যিনি একটি মিডিয়া সংস্থা ‘প্রাইড ইস্ট এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৩.৫৪ কোটি টাকা এবং ১৯.২৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে হাতে নগদ রয়েছে ৩.১৬ লক্ষ টাকা এবং ব্যাংক আমানত হিসেবে জমা রয়েছে ৭৪.৮৫ লক্ষ টাকা। তাঁর সম্পদের তালিকায় আরও রয়েছে একটি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ২.৭৪ কোটি টাকার শেয়ার; মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাবদ ২.৩২ কোটি টাকা এবং ১.৭৭ কোটি টাকা 'সারেন্ডার ভ্যালু' বিশিষ্ট একটি বিমা পলিসি।
মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী বিভিন্ন খাতে ৩.৬৯ কোটি টাকারও বেশি ঋণ দিয়ে রেখেছেন; তাঁর মালিকানায় রয়েছে ২১.৬০ লক্ষ টাকা দামের একটি এসইউভি (SUV) গাড়ি। তাঁর কাছে সোনা রয়েছে মোট ১.৪৫ কেজি, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২.০৩ কোটি টাকা।
হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর অথবা তাঁর স্ত্রী - উভয়েরই কোনো কৃষি জমি নেই; এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর মালিকানাধীন কোনো অকৃষি জমিও নেই।
উভয়ের বেশ কিছু ঋণ রয়েছে। হিমন্ত শর্মার ঋণ রয়েছে ৯৫ লক্ষ টাকার। সম্পদের মতো তাঁর স্ত্রীর ঋণের পরিমাণও তাঁর থেকে অনেক বেশি। তাঁর স্ত্রীর মোট ঋণের পরিমাণ ১৫.৯১ কোটি টাকা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন