ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই আসামে শাসকদল বিজেপিতে রীতিমতো ধস নেমেছে। রবিবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। গতকালও বড়ো ধাক্কা লেগেছে বিজেপি শিবিরে। এদিন দলের সঙ্গ ছেড়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী নন্দিতা গার্লোসা। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন গার্লোসা।
রবিবার রাতেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তিনি। সম্ভবত হাফলং আসনে গার্লোসাকে প্রার্থী করবে কংগ্রেস। বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরপরই দল ছাড়ার হিড়িক চলছে। এর আগেই ধলাই আসনের বিজেপি বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার সকালে বিহুপুরিয়া আসনের বিধায়ক অমিয় কুমার ভূইয়া বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শনিবার বিজেপির বিশিষ্ট নেতা জয়ন্ত দাস দল ছেড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেছেন৷ কাটিগড়া আসনে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন শনিবার রাতে দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁকে এবার কাটিগড়ায় টিকিট দিচ্ছে কংগ্রেস।
২০২১ সালে নির্বাচিত বর্তমান বিধায়ক গোরলোসা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং খনি, খনিজ ও উপজাতীয় ধর্ম বিষয়ক দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। বিজেপি তাঁকে বাদ দিয়েছে এবং পরিবর্তে হাফলং থেকে রূপালী লাংথাসাকে প্রার্থী করেছে; এটি ছিল দলের একটি বৃহত্তর রদবদলের অংশ। যার ফলে বেশ কয়েকজন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক অমর চাঁদ জৈন কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন এবং কাটিগড়া কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়বেন। একই আসনে বিজেপি কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থকে প্রার্থী করেছে; এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা দলের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আস্থার কথা ব্যক্ত করেছেন।
যদিও এসবের মধ্যে মন্ত্রী গার্লোসার পদত্যাগ বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মনোনয়ন না পেয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে দল ছাড়ার কথা বলেন গার্লোসা। এখবর চাউর হতেই তাঁকে ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা মরিয়া চেষ্টা করেন। গার্লোসা দল ছাড়লে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, এই আশংকায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গার্লোসার বাড়িতে ছুটে যান একাধিক মন্ত্রী। বিজেপি থেকে বলা হয়, গার্লোসার দল ছাড়ার কথা গুজব। তিনি দলেই থাকবেন। কিন্তু হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্ত্রী গার্লোসাকে দলে রাখতে ব্যর্থ হন৷
এদিকে, বিহুপুরিয়া আসনের বিধায়ক অমিয় কুমার ভূইয়াকে দলে রাখতে হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করারও টোপ দেন। কিন্তু হিমন্তের প্রলোভনে পা দেননি ভূইয়া। তিনিও শেষপর্যন্ত দল ছেড়েছেন৷ রবিবারও জেলায় জেলায় বিজেপির একাধিক জেলা, ব্লক ও রাজ্যস্তরের নেতা পদত্যাগ করেছেন। দলের ভাঙন রুখতে নির্বাচনী প্রচার বাদ দিয়ে বিক্ষুব্ধদের সামাল দিতে ছুটোছুটি করলেও হিমন্তবিশ্ব শর্মার চেষ্টা আপাতত সফল হচ্ছে না। বিজেপিতে ইস্তফা চলছেই।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন