আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে আসাম বিধানসভা নির্বাচন। গতকাল বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র ঘোষিত তালিকা ঘিরে দলের ভেতরেই অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। টিকিট না পেয়ে একাধিক নেতা পদত্যাগ করছেন এবং দলের প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন।
প্রথম বড় প্রতিক্রিয়া আসে ধলাই কেন্দ্র থেকে। ওই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক নিহার রঞ্জন দাস তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ত্যাগ করেন। গুয়াহাটিতে দলের রাজ্য নেতৃত্বের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকায় দলের সংগঠন শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। তবে তাঁর অবদানের কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলেও আক্ষেপ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টিকিট না পাওয়ায় তিনি দলের সদস্যপদ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে বিজেপির প্রবীণ নেতা জয়ন্ত কুমার দাস-ও দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দিসপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আসনটি কংগ্রেস থেকে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রদ্যুৎ বরদলৈ-কে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন, দলের পুরনো ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের উপেক্ষা করে অন্য দল থেকে আসা নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রার্থী নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-কে।
এদিকে দিসপুরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অতুল বোরা-ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও দলের বর্তমান পরিবেশ তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এখন বাইরে থেকে প্রার্থী এনে তাঁদের হাতে টিকিট তুলে দিচ্ছে, ফলে দলের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
শুধু বিজেপি নয়, এনডিএ শরিক ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (UPPL)-এর মধ্যেও ধাক্কা লেগেছে। দলের বারামা কেন্দ্রের বিধায়ক ভূপেন বোরা প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, তিনি ভবিষ্যতে বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (BPF)-এ যোগ দিতে পারেন।
সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর আসামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। একের পর এক পদত্যাগ ও অসন্তোষের ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে টিকিট বণ্টনই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন